কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার প্রায় তিন লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকটে হাসপাতালটির সেবার মান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৩১ শয্যার হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বৃদ্ধি পায়নি। বর্তমানে ৩৩টি চিকিৎসকের পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। বিশেষ করে চক্ষু, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক ও গাইনি বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে।
প্রতিদিন গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০ রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলেও সীমিত চিকিৎসক দিয়ে তাদের সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও অনেক রোগী চিকিৎসকের পরামর্শ না পেয়েই ফিরে যাচ্ছেন।
হাসপাতালে এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফিসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি থাকলেও প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ান ও রেডিওলজি বিভাগের জনবল না থাকায় সেগুলো ব্যবহার করা যাচ্ছে না। এর ফলে রোগীদের অতিরিক্ত খরচ করে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালকের অভাবে সেটি দীর্ঘদিন অচল রয়েছে। জেনারেটর থাকলেও তা সচল না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় রোগীসেবায় বিঘ্ন ঘটে।
অপারেশন থিয়েটার থাকলেও গাইনি সার্জন ও অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে প্রসূতি মায়েদের সিজারিয়ানসহ জরুরি অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে জটিল রোগীদের কুড়িগ্রাম বা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, যা সীমান্তবর্তী ও নদীবেষ্টিত এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য।
হাসপাতালটিতে নার্স, অফিস সহকারী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, নৈশপ্রহরী ও আয়ার একাধিক পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও রোগীসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজন রোগী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় চিকিৎসকের দেখা পাওয়া যায় না। প্রয়োজনীয় ওষুধও প্রায়ই বাইরে থেকে কিনতে হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, সীমান্তবর্তী এ অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালটির সংকট নিরসন জরুরি।
রৌমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ জনবল সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সীমিত জনবল দিয়েই সাধ্যমতো সেবা দেওয়া হচ্ছে। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।