তেলের দাম বাড়তেই ধস ভারতের শেয়ারবাজারে, চাপে রুপি ও বন্ড বাজার
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার প্রভাবে বড় ধরনের ধস নেমেছে ভারতের শেয়ারবাজারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে শান্তি চুক্তি ‘শেষ’ বলে মন্তব্য করার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ে এবং শেয়ারবাজারে বিক্রির চাপ তৈরি হয়।
বুধবার (৮ জুলাই) লেনদেন শেষে ভারতের বেঞ্চমার্ক সূচক নিফটি-৫০ ২ দশমিক ১২ শতাংশ বা প্রায় ৫১৮ পয়েন্ট কমে ২৩ হাজার ৮৮২ দশমিক ৫ পয়েন্টে দাঁড়ায়। একই সময়ে বিএসই সেনসেক্স ২ দশমিক ১৫ শতাংশ বা প্রায় ১ হাজার ৬৮০ পয়েন্ট হারিয়ে ৭৬ হাজার ৫০৩ দশমিক ৬ পয়েন্টে বন্ধ হয়। গত তিন মাসের মধ্যে এটি ছিল উভয় সূচকের সবচেয়ে বড় একদিনের পতন।
হরমুজ প্রণালিতে ট্যাংকারে হামলার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর জবাবে ইরান দাবি করে, তারা বাহরাইন ও কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা আরও বেড়ে যায় এবং ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছে।
তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতির প্রভাব শুধু ভারতেই নয়, বৈশ্বিক বাজারেও পড়ে। ইউরোপের স্টক্স ৬০০ সূচক তিন মাসের মধ্যে সবচেয়ে বড় দৈনিক পতনের পথে এগোয়। এশিয়ার অধিকাংশ শেয়ারবাজারেও নেতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের শেয়ারবাজারের ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ কমে যায়।
এদিকে ডলারের বিপরীতে ভারতীয় রুপির মান ০ দশমিক ৬২ শতাংশ কমেছে। সরকারি বন্ডের দাম কমে যাওয়ায় বেঞ্চমার্ক বন্ডের ফলন ৭ বেসিস পয়েন্টের বেশি বেড়ে ৬ দশমিক ৭৬৯২ শতাংশে পৌঁছেছে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ও ভোক্তা দেশ হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি ভারতের অর্থনীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এতে আমদানি ব্যয় বাড়বে, মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তীব্র হবে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের অনিশ্চয়তা অব্যাহত থাকলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আবারও ভারতীয় শেয়ারবাজার থেকে বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে পারেন। এতে বাজার পুনরুদ্ধারের গতি আরও ধীর হয়ে যেতে পারে।
এদিন আর্থিক খাতের শেয়ার গড়ে ২ দশমিক ৫ শতাংশ এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ার ১ দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। বাজারের ১৬টি প্রধান খাতই লোকসানে লেনদেন শেষ করেছে। পাশাপাশি স্মল-ক্যাপ ও মিড-ক্যাপ সূচকেও উল্লেখযোগ্য দরপতন হয়েছে।
তেলের দাম বাড়ার কারণে মুনাফা কমে যাওয়ার আশঙ্কায় তেল বিপণন প্রতিষ্ঠান, রং প্রস্তুতকারী কোম্পানি, বিমান পরিবহন সংস্থা এবং টায়ার নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও বড় ধরনের পতন দেখা গেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।