টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পৃথক দুই পাহাড়ধসের ঘটনায় শিশুসহ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ভোররাতে উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়ায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে এই দুই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রথম পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে রাত ৩টার দিকে। ধসে একটি বসতঘর মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। পরে ভোরে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার অভিযান চালান।
প্রথম ঘটনায় নিহত হন মিশনপাড়ার বাসিন্দা মো. ইউনুস (২৮), তার স্ত্রী রানু আক্তার (২২) এবং তাদের চার বছর বয়সী ছেলে মো. সোলেমান।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর একই এলাকায় আবারও পাহাড়ধস হয়। এতে একটি একতলা ঘর ধসে পড়ে দেয়াল ও মাটির নিচে চাপা পড়ে মারা যান মো. জুয়েল (৩৪) ও তার স্ত্রী কুলছুমা আক্তার (২৫)। তারা চট্টগ্রামের হালিশহরের রামপুরার বাসিন্দা হলেও লামার মিশনপাড়ায় ভাড়া থাকতেন।
আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন জানান, খবর পাওয়ার পরপরই তিনি ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহযোগিতা এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের নিয়ে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।
লামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কায়ছার হামিদ বলেন, পৃথক দুই ঘটনায় মোট পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত মাইকিং করে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।