হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক জাহাজে হামলার ঘটনার পর ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আবারও কড়াকড়ি আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ীদের জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেছে ওয়াশিংটন।
রয়টার্স জানায়, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে ইরানের তেল রপ্তানির জন্য আগে দেওয়া সাময়িক অনুমোদনের মেয়াদ কমিয়ে আনা হয়েছে। গত মাসে মার্কিন অর্থ বিভাগ যে ছাড় দিয়েছিল, তা আর বহাল থাকছে না। এ ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ শতাংশের বেশি বেড়ে যায়।
ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালি ও আশপাশের এলাকায় অন্তত তিনটি তেলবাহী ট্যাংকার অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এসব হামলার দায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ স্বীকার করেনি। ইরানও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
তবে উত্তেজনা বাড়লেও কূটনৈতিক যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতায় পৌঁছানোর প্রচেষ্টা এখনও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং নতুন নিষেধাজ্ঞা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা ও সম্ভাব্য সমঝোতার পথও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।