বগুড়ার গাবতলী উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নে অতিদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য নেওয়া খাল পুনর্খনন প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের শ্রমিক তালিকায় ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য, স্কুলশিক্ষক, প্রবাসী, চাকরিজীবী এবং আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় খুপি হাড়িভিটা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে আটবাড়িয়া আশ্রয়ণ প্রকল্প পর্যন্ত একটি খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্পের কাগজে ২৯৭ জন শ্রমিকের নাম থাকলেও সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ কাজই করা হচ্ছে খননযন্ত্র দিয়ে। হাতে কোদাল নিয়ে কাজ করছেন মাত্র ৫০ থেকে ৬০ জন শ্রমিক।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উদ্বোধনের দিন তুলনামূলক বেশি শ্রমিক উপস্থিত থাকলেও পরদিন থেকেই শ্রমিকের সংখ্যা কমতে থাকে। পরে তালিকা ঘেঁটে দেখা যায়, সেখানে মালয়েশিয়াপ্রবাসী, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, একজন স্কুলশিক্ষক, বেসরকারি চাকরিজীবী এমনকি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নামও রয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হজরত আকন্দের ছেলে ও স্কুলশিক্ষক রবিউল ইসলাম নিজেও তালিকায় নাম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি এই প্রকল্পের একজন “ভিআইপি শ্রমিক”।
অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান রাজা মণ্ডল বলেন, দ্রুত তালিকা জমা দেওয়ার প্রয়োজন হওয়ায় ভুলবশত কয়েকজনের নাম যুক্ত হয়েছিল। পরে তালিকা সংশোধন করে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নতুন নাম সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে গাবতলী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজিদুল ইসলাম অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর শ্রমিক তালিকা সংশোধন করা হয়েছে। বর্তমানে অর্থবছর শেষ হওয়ায় প্রকল্পের কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী বরাদ্দ পেলে আবারও কাজ শুরু হবে।
গাবতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, প্রকল্পে এ ধরনের অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। বিষয়টি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।