মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা যায়নি। তবে বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা এবং চাহিদা নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। ফলে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা সীমিত রয়েছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিনের শুরুতে ব্রেন্ট ও ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) উভয় ধরনের অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়েছে।
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বা ০ দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ২৯ সেন্ট বা ০ দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ দশমিক ৮৪ ডলারে। এর আগের দিন উভয় ধরনের তেলের দাম ইরান সংকট শুরুর আগের অবস্থানের কাছাকাছি নেমে এসেছিল।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে তাৎক্ষণিক যুদ্ধের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় তেলের দামের সঙ্গে যুক্ত অতিরিক্ত ঝুঁকির প্রভাবও অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখনো অনিশ্চিত থাকায় পরিস্থিতি যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নয়তো প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। তার এই মন্তব্যও বাজারে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিনিয়োগকারীরা এখন বিশেষভাবে নজর রাখছেন হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি পরিস্থিতি এবং বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি চীনে জ্বালানির চাহিদার ওপর।
অন্যদিকে ওপেক প্লাস আগামী আগস্ট থেকে দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও উৎপাদন বাড়ানো হয়েছিল।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, সংযুক্ত আরব আমিরাত জুন মাসে দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল উৎপাদন করেছে, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ।
একই সময়ে সৌদি আরব এশিয়ার বাজারে আগস্ট মাসের জন্য তাদের প্রধান আরব লাইট অপরিশোধিত তেলের সরকারি বিক্রয়মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দশকের বেশি সময়ের মধ্যে এটি সবচেয়ে বড় মূল্যছাড়ের একটি, যা বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াবে।
সূত্র: রয়টার্স
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।