তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ধারাবাহিক ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তুরস্কের কাছে উন্নত মার্কিন সামরিক প্রযুক্তি, বিশেষ করে এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান ও আধুনিক যুদ্ধ সরঞ্জাম বিক্রি না করার আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।
মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার (৩ জুলাই) ট্রাম্পের সঙ্গে এক টেলিফোন আলাপেই নেতানিয়াহু তার উদ্বেগ তুলে ধরেন। চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের তুরস্ক সফরের কথা রয়েছে। সফরে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকও হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গাজা যুদ্ধ এবং ইরানকে ঘিরে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইসরায়েল ও তুরস্কের সম্পর্ক আরও অবনতি হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশেরই ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্ক থাকায় ওয়াশিংটনের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ইরান সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে নেতানিয়াহুর প্রভাব কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে ট্রাম্প ও এরদোয়ানের ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং তুরস্কের সঙ্গে সম্ভাব্য অস্ত্রচুক্তি নেতানিয়াহুর অনুরোধ বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে।
জানা গেছে, ন্যাটো সম্মেলনের সময় তুরস্কের জন্য প্রায় ৭০ কোটি মার্কিন ডলারের যুদ্ধবিমান ইঞ্জিন সরবরাহ এবং দেশটিকে পুনরায় এফ ৩৫ কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হতে পারে।
২০১৯ সালে রাশিয়ার এস ৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্ককে এফ ৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। তবে সম্প্রতি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তুরস্ককে পুনরায় এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব কি না, তা পর্যালোচনা করছে পেন্টাগন।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জায়নবাদকে “গণহত্যার মতাদর্শ” বলে মন্তব্য করেন। একই সময়ে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানান।
এসব বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অনুরোধ করেছেন, তিনি যেন এরদোয়ানকে সংযত হওয়ার বার্তা দেন। বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্প বিষয়টি গুরুত্বসহকারে শুনেছেন এবং এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এটি উত্থাপন করতে পারেন। তবে হোয়াইট হাউস কিংবা ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এদিকে ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তুরস্কের কড়া সমালোচনা করেন নেতানিয়াহু। তিনি অভিযোগ করেন, আঙ্কারা মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলবিরোধী অবস্থান আরও জোরালো করছে এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো সংগঠনের আদর্শকে সমর্থন দিচ্ছে।
নেতানিয়াহুর ভাষ্য, এমন একটি দেশের হাতে এফ ৩৫ যুদ্ধবিমান বা অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি তুলে দেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান কৌশলগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। বর্তমানে এই ভারসাম্য ইসরায়েলের সামরিক সক্ষমতা ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার মাধ্যমে বজায় রয়েছে।
সূত্র: অ্যাক্সিওস
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।