কক্সবাজারে ভ্রমণে আসা এক অস্ট্রেলিয়ান নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তিনজনকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
সোমবার (৬ জুলাই) কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক রোকেয়া আক্তার এ রায় ঘোষণা করেন।
ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. শামীম জানান, মামলায় ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত এই রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় কোনো আসামিই আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পেঁচার দ্বীপ এলাকার মো. আনছারুল্লাহ (২৯), আবদুল গফুর (২৬) এবং বেলাল উদ্দিন (৩৬)। তবে একই মামলার আরেক আসামি ও কটেজ মালিক কাইয়ুমুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর পাবলিক প্রসিকিউটর মীর মোশাররফ হোসেন টিটু। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মহিউদ্দিন মঈন।
রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৪)(খ)/৩০ ধারায় আনা অভিযোগ আসামিদের বিরুদ্ধে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই প্রত্যেককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ৮ ডিসেম্বর অন অ্যারাইভাল ভিসায় বাংলাদেশে আসেন অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক অ্যালিসা। তিনি ১৪ ডিসেম্বর কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপ সংলগ্ন মারমেইড বিচ রিসোর্টের পাশের একটি কটেজে ওঠেন।
দুই দিন পর গভীর রাতে অভিযুক্তরা কটেজে ঢুকে ঘুমন্ত অবস্থায় তার মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে ওই নারী আহত হন। পরে তিনি কটেজ থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, কটেজের এক নিরাপত্তাকর্মীর সহযোগিতায় আবদুল গফুর ও বেলাল ঘটনাস্থলে প্রবেশ করেন। প্রাথমিকভাবে চুরির উদ্দেশ্যে কটেজে ঢুকলেও পরে তারা নারী পর্যটককে ধর্ষণের চেষ্টা করে।
ঘটনার পর হিমছড়ি পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) স্বরূপ কান্তি দাশ বাদী হয়ে রামু থানায় মামলা দায়ের করেন। তদন্তের সময় গ্রেপ্তার হওয়া দুই আসামি জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্ত সংস্থা জানিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।