শেষ মুহূর্তের নাটকীয় গোলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগালকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে স্পেন। নির্ধারিত ৯০ মিনিট গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বদলি নেমে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো।
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে দুই দল। তবে একের পর এক সুযোগ তৈরি করেও গোলের দেখা পাচ্ছিল না কেউ। যখন মনে হচ্ছিল ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে গড়াবে, তখনই যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে গোল করে স্পেনকে শেষ আটের টিকিট এনে দেন মেরিনো।
ম্যাচের তৃতীয় মিনিটেই প্রথম বড় সুযোগ তৈরি করে স্পেন। মিডফিল্ডে বল কেড়ে দ্রুত প্রতিআক্রমণে উঠে একাই প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকে শট নেন মিকেল ওয়ারাজাবাল। তবে দুর্দান্ত সেভ করে পর্তুগালকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক ডিয়েগো কস্তা। কিছুক্ষণ পর ডান প্রান্ত দিয়ে লামিনে ইয়ামালের দারুণ ক্রস বক্সে এলেও সেখানে কোনো স্প্যানিশ ফুটবলার না থাকায় বিপদ কেটে যায়।
অষ্টম মিনিটে আবারও গোলের সুযোগ পায় স্পেন। দানি ওলমোর থ্রু পাস ধরে বক্সে ঢুকে ওয়ারাজাবাল শট নিলেও বল পোস্টের বাইরে চলে যায়। লাইনসম্যান অফসাইডের পতাকা তোলেননি। ফলে বল জালে জড়ালে সেটি বৈধ গোলই হতো।
১২ মিনিটে প্রথম বড় সুযোগ আসে পর্তুগালের। ব্রুনো ফার্নান্দেসের পাস পেয়ে ডান প্রান্ত থেকে তীক্ষ্ণ কোণাকুণি শট নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে অসাধারণ সেভ করে স্পেনকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক উনাই সিমন।
১৬ মিনিটে আবারও আক্রমণে ওঠে স্পেন। লামিনে ইয়ামালের বাঁকানো শট প্রথমে ঠেকিয়ে দেন ডিয়েগো কস্তা। ফিরতি বলে অ্যালেক্স বায়েনা কাছ থেকে শট নিলেও আবারও অসাধারণ সেভ করেন পর্তুগিজ গোলরক্ষক। পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভে নিশ্চিত গোল বাঁচান তিনি।
৩০ মিনিটে মার্ক কুকুরেয়ার পাস থেকে পেদ্রির উঁচু বল পেয়ে দানি ওলমো ও পাও কুবার্সি সুযোগ তৈরি করলেও সময়মতো এগিয়ে এসে বলের নিয়ন্ত্রণ নেন ডিয়েগো কস্তা। ফলে প্রথমার্ধ গোলশূন্যভাবেই শেষ হয়।
দ্বিতীয়ার্ধেও দুই দল সমানতালে আক্রমণ চালাতে থাকে। ৬৮ মিনিট পর্যন্ত কোনো দলই গোলের দেখা না পাওয়ায় রেফারি দ্বিতীয় হাইড্রেশন ব্রেক দেন। এরপর ৭১ মিনিটে জোড়ায় পরিবর্তন আনেন পর্তুগাল কোচ রোবের্তো মার্তিনেজ। জোয়াও ফেলিক্স ও জোয়াও ক্যানসেলোর জায়গায় মাঠে নামানো হয় রাফায়েল লেয়াও ও ডিয়োগো দালোটকে।
৭৩ মিনিটে স্পেন ফ্রি-কিক পেলেও লামিনে ইয়ামালের দারুণ শট কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন ডিয়েগো কস্তা। এরপর ৭৬ মিনিটে ভিতিনিয়ার দূরপাল্লার শট স্পেনের রক্ষণ ঠেকিয়ে দেয়। ফিরতি বলে ব্রুনো ফার্নান্দেসের শট সাইড নেটে লাগায় হতাশ হতে হয় পর্তুগালকে।
ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত হয় যোগ করা সময়ে। ৯০ মিনিট শেষে ছয় মিনিট অতিরিক্ত সময় ঘোষণা করা হলে প্রথম মিনিটেই গোল করে স্পেনকে এগিয়ে দেন বদলি নামা মিকেল মেরিনো। দুই সেন্টার-ব্যাকের মাঝের ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে ঢুকে সতীর্থের পাস নিয়ন্ত্রণে এনে নিচু শটে বল জড়িয়ে দেন জালের কোণায়। সেই এক গোলেই ম্যাচের নায়ক হয়ে ওঠেন তিনি।
গোল হজমের পর মরিয়া হয়ে ওঠে পর্তুগাল। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে আসা ক্রসে বার্নার্দো সিলভা হেড করলেও বল অল্পের জন্য গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। শেষ সুযোগটিও কাজে লাগাতে না পারায় সমতায় ফেরা হয়নি তাদের।
শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে স্পেন। অন্যদিকে শেষ বিশ্বকাপ খেলতে নামা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরের যাত্রা শেষ হয় হতাশার বিদায়ে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।