স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সম্পদ নিয়ে সাম্প্রতিক বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যকে ঘিরে আলোচনা চললেও তার নির্বাচনী হলফনামা, পারিবারিক ব্যবসা এবং সম্পদের বিষয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, মীর শাহে আলমের নামে ১ হাজার ৮২৪ শতাংশ জমি এবং ১২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করে সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত এড়াতে তিনি পারিবারিক ব্যবসার মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরে দাঁড়িয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান জানান, শপথ গ্রহণের পর বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শেয়ার, মালিকানা ও পরিচালনার দায়িত্ব পরিবারের অন্য সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।
জানা গেছে, ব্যবসা পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি পরিবারের মালিকানাধীন রোমা অটো রাইস মিল ৪২ কোটি টাকায় বিক্রি করা হয়। নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই প্রতিষ্ঠানের ক্রেতা ছিলেন বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রাইস মিল ব্যবসায়ী রবিউল আলম। তিনি মিলটি কেনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নির্বাচনী হলফনামায় প্রতিমন্ত্রীর নামে যেসব প্রতিষ্ঠানের তথ্য রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রোমা অটো রাইস মিল, রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড, রূপসী ফ্লাওয়ার মিল, দুটি ফিলিং স্টেশন, ট্রেডিং এজেন্সি, ওভারসিজ প্রতিষ্ঠান, কৃষি ও মৎস্য খামার, কংক্রিট ব্রিকস ফ্যাক্টরি, মিনি কোল্ড স্টোরেজ এবং প্রাণী খামার।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সম্পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ওই প্রতিবেদনে তার সম্পদের পরিমাণ ও জমির তথ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের দাবি, প্রতিবেদনে উপস্থাপিত তথ্য হলফনামার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
প্রেস সেক্রেটারি আতিকুর রহমান বলেন, নতুন করে ২৪২ শতাংশ জমি কেনার যে দাবি করা হয়েছে, সেটি ব্যক্তি হিসেবে মীর শাহে আলমের নামে নয়। জমিটি রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেডের নামে ক্রয় করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা বা ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও তার কোনো ব্যক্তিগত সম্পৃক্ততা নেই।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, মীর শাহে আলম দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পর তিনি ব্যবসা পরিচালনা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলেই জানা যায়। তার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে, শিবগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুর রউফ রুবেল বলেন, প্রকাশিত প্রতিবেদনের শিরোনাম ও উপস্থাপিত তথ্যের মধ্যে যথেষ্ট সামঞ্জস্য পাওয়া যায়নি। তার মতে, বিষয়টি আরও পূর্ণাঙ্গ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা প্রয়োজন ছিল।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।