সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল দুই ধাপে নয়, একবারেই বাস্তবায়নের বিষয়ে ভাবছে সরকার। তবে নবম জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী বেতন বাড়ানোর পরিবর্তে কিছুটা কম হারে বৃদ্ধি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
অর্থ বিভাগ সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে সমকাল।
নবম জাতীয় বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সভা আজ (সোমবার) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।
বর্তমানে অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। নবম বেতন কমিশন সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করেছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কাঠামোতে ১ম থেকে ৯ম গ্রেড পর্যন্ত বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় কমিশনের প্রস্তাবের তুলনায় কম হারে বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
আজকের বৈঠকে কমিশনের সুপারিশের আর্থিক প্রভাব, বাস্তবায়নের সময়সূচি, পর্যায়ক্রমিক বেতন সমন্বয় এবং বিভিন্ন ক্যাডার ও শ্রেণির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।
এ ছাড়া কমিশনের কোন সুপারিশগুলো গ্রহণ করা হবে, কোথায় সংশোধন আনা হবে এবং বাস্তবায়নের রোডম্যাপ কী হবে-এসব বিষয়েও অগ্রগতি হতে পারে। তবে এই বৈঠকেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, নতুন পে স্কেলের মূল বেতন ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হতে পারে। তবে বিভিন্ন ভাতা ২০২৭-২৮ অর্থবছর থেকে কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক অর্থসচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নিয়ম অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর বেতন পুনর্নির্ধারণ হওয়ার কথা থাকলেও গত ১১ বছরে তা হয়নি। তাই বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সরকারি আর্থিক সক্ষমতা, মূল্যস্ফীতি এবং বেসরকারি চাকরিজীবীদের অবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, অর্থসচিব, জনপ্রশাসনসচিব, আইনসচিব, প্রতিরক্ষাসচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা সচিব, স্বাস্থ্যসেবা সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক সদস্য হিসেবে রয়েছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।