২০২৪ সালের জুলাই মাসের কোটা সংস্কার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ৫ জুলাই ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। সাপ্তাহিক ছুটি থাকা সত্ত্বেও দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কে আন্দোলনকারীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এদিনের ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে ওঠে, আন্দোলন আর শুধু একটি ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক কর্মসূচি নয়, বরং তা জাতীয় পর্যায়ের ছাত্র আন্দোলনের রূপ নিতে শুরু করেছে।
সকালের পর থেকেই রাজধানী ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ, মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচিতে অংশ নেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সমন্বিত প্রচারণার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী কর্মসূচিতে যুক্ত হন। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না।
দিনব্যাপী কর্মসূচি শেষে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তারা ৭ জুলাই থেকে দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জনের আহ্বান জানান। এই ঘোষণা আন্দোলনে নতুন গতি যোগ করে।
এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি আবাসিক হল থেকে আন্দোলনের সমন্বয়কদের বের করে দেওয়ার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত পর্যন্ত বিভিন্ন হলে স্লোগান দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের। পুরো ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
আন্দোলনের এ পর্যায়ে শিক্ষকদের একটি অংশও প্রকাশ্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানায়। এক বিবৃতিতে তারা কোটা বাতিল সংক্রান্ত পূর্বের সিদ্ধান্ত বাতিলের বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। শিক্ষকদের এই অবস্থান আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মনোবল আরও শক্তিশালী করে।
শুধু রাজধানীতেই নয়, ৫ জুলাই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও একই দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ৫ জুলাইয়ের কর্মসূচি ছিল আন্দোলনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া একটি দিন। ছুটির দিনেও শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ এবং দেশব্যাপী সমন্বিত কর্মসূচি পরবর্তী সময়ের বৃহত্তর আন্দোলনের ভিত্তি তৈরি করে। কয়েক দিনের মধ্যেই আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়ে জাতীয় অঙ্গনে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার কেন্দ্রে পরিণত হয়।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।