টানা তিন দিনের ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার দুধকুমার নদের পানি বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চর এলাকা প্লাবিত হয়ে প্রায় তিন হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।
পানির চাপে বিভিন্ন এলাকার সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। একই সঙ্গে বাড়িঘর, ফসলি জমি এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার বিকেল ৩টায় পাটেশ্বরী পয়েন্টে দুধকুমার নদের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ২৯ দশমিক ৮৪ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা নির্ধারিত রয়েছে ২৯ দশমিক ৬০ মিটার। ফলে নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের আশঙ্কা, আগামী দিনগুলোতে জেলার নদনদীর পানি আরও বাড়তে পারে। এতে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ইতোমধ্যে দুধকুমার নদের তীরবর্তী তিলাই, পাইকেরছড়া, সোনাহাট, চর ভূরুঙ্গামারী এবং আন্ধারিঝাড় ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। চার শতাধিক বাড়িতে পানি ঢুকেছে। অনেক স্থানে শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, বাড়িঘরে পানি ওঠায় গবাদিপশু ও হাঁস মুরগি নিয়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি নদীভাঙনের আশঙ্কাও তাদের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে।
পাইকেরছড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা ও ছিট পাইকেরছড়া গ্রামের তিন শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
তিলাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান বলেন, ইউনিয়নের অন্তত তিনটি ওয়ার্ডের চার শতাধিক পরিবার বন্যার পানিতে আটকা পড়েছে। সোমবার পর্যন্ত সরকারি ত্রাণ না পৌঁছানোয় স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সবুজ কুমার গুপ্ত জানান, জরুরি ত্রাণ সহায়তার জন্য ৩০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই চাল বিতরণ করা হবে এবং মঙ্গলবার থেকে বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ বলেন, বন্যা পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি শুকনো খাবার, চিকিৎসাসেবা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।