দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের কয়েকদিন পরও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই সোমবার ভোরে দেশটির কয়েকটি এলাকায় আবারও একটি পরাঘাত অনুভূত হয়েছে। যদিও এতে নতুন করে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিবিসি ও এএফপি প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর একটি লা গুয়াইরা বন্দরে স্থানীয় বাসিন্দারা এখনও নিজেদের স্বজন ও প্রতিবেশীদের খুঁজে বের করতে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেকেই শাবল, কোদাল ও হাতুড়ির মতো সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নিচ্ছেন। এখনও হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এই দুর্যোগকে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়গুলোর একটি বলে উল্লেখ করেছেন।
বার্তাসংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ভূমিকম্পে অন্তত ১ হাজার ৭১৯ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে শুরু করলেও সময় গড়িয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিত কাউকে পাওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই কমছে।
তবে আশার খবরও মিলেছে। সোমবার ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ২১ বছর বয়সী এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বুধবার উত্তরাঞ্চলের লা গুয়াইরা রাজ্যে মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে প্রায় ৮০০টি ভবন ধসে পড়ে। সর্বশেষ সোমবার রাজধানী কারাকাস ও লা গুয়াইরায় ৪ দশমিক ৬ মাত্রার একটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর উপস্থিতি থাকলেও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উদ্ধার কার্যক্রমে সরকারি তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়। কারাকাসের পশ্চিমে পাহাড়ি এলাকা এল জুনকুইতোর বাসিন্দারা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, জরুরি সহায়তার বড় অংশই স্থানীয় কৃষক ও স্বেচ্ছাসেবীদের কাছ থেকে আসছে।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ২৫ হাজারের বেশি জরুরি কর্মী, পুলিশ ও সেনাসদস্য দুর্গত মানুষের সহায়তায় কাজ করছেন। তার ভাষ্য, এই মুহূর্তে প্রতিটি জীবন রক্ষা করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
তিনি আরও জানান, ভবনগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নে রঙভিত্তিক সতর্কতা ব্যবস্থা চালু করা হবে। সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে কোন এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িতে ফিরতে পারবেন। পাশাপাশি বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের আবাসিক মানবিক সমন্বয়কারী জিয়ানলুকা রামপোলা দেল তিনদারো জানিয়েছেন, মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ৫০০টির বেশি পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। এতে অন্তত ২ হাজার ৫০০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার অধিকাংশই সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে।
তিনি বলেন, সম্ভাব্য প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এ কারণে উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি ১০ হাজার মরদেহ সংরক্ষণের ব্যাগ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে জাতিসংঘ।
সূত্র: বিবিসি, এএফপি।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।