বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ঋণের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় এখন দেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। অর্থনীতিবিদদের ভাষ্য, এটি ব্যক্তিগত ঋণ নয়। বরং সরকার বিভিন্ন সময়ে দেশি ও বিদেশি উৎস থেকে যে ঋণ নিয়েছে, তার মোট পরিমাণকে দেশের জনসংখ্যার ভিত্তিতে ভাগ করলে এই হিসাব পাওয়া যায়।
সোমবার জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারের মোট ঋণের পরিমাণ ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণ ১১ লাখ ৯৪ হাজার ৮৫৩ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক ঋণ ৯ লাখ ৪৯ হাজার ১৮১ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ জনসংখ্যার তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে প্রায় ১৭ কোটি ২৯ লাখ মানুষ রয়েছে। সেই হিসাবে মাথাপিছু ঋণ দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে দেশীয় ঋণের অংশ প্রায় ৬৯ হাজার ১০০ টাকা এবং বৈদেশিক ঋণের অংশ প্রায় ৫৪ হাজার ৯০০ টাকা।
অর্থাৎ চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় ঋণের হিসাব দাঁড়ায় প্রায় ৫ লাখ টাকা।
এদিকে ২০২৬ থেকে ২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে জনপ্রতি সরকারি ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। ফলে মাথাপিছু সরকারি ঋণের পরিমাণ সেই বরাদ্দের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।
নতুন বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা ব্যয়ের অন্যতম বড় খাত। অর্থনীতিবিদদের মতে, ঋণের সুদ পরিশোধে এত বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হওয়া সরকারের আর্থিক চাপের ইঙ্গিত দেয়।
অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, ঋণ নেওয়া স্বাভাবিক বিষয় হলেও নতুন ঋণ নিয়ে পুরোনো ঋণের কিস্তি বা সুদ পরিশোধ করা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক নয়। তার মতে, সরকারের পরিচালন ব্যয় কমিয়ে উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে নেওয়া ঋণ যদি কর্মসংস্থান, উৎপাদন ও রাজস্ব আয় বাড়াতে কার্যকরভাবে ব্যবহার না হয়, তাহলে তা অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
জাতীয় সংসদে বাজেটের সমাপনী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগের সরকারের সময়ে ব্যাপক ঋণ নেওয়ার ফলে বর্তমান সরকারকে সেই দায় বহন করতে হচ্ছে। তবে সরকার ধীরে ধীরে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট সরকারি ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। অন্যদিকে সরকারের সম্ভাব্য আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা পূরণে সরকারকে নতুন করে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।