পপসম্রাট Michael Jackson-কে নিয়ে নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’ বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে নতুন ইতিহাস গড়েছে। ছবিটি আয় ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে একাধিক রেকর্ড ভেঙে সর্বকালের অন্যতম সফল বায়োপিক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
হলিউডভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ছবিটি বিশ্বজুড়ে প্রায় ৯৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার আয় করেছে। এর মাধ্যমে পরমাণু বোমার জনককে নিয়ে নির্মিত Oppenheimer-এর বৈশ্বিক আয়ের রেকর্ডও ছাড়িয়ে গেছে। এতদিন ৯৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয় নিয়ে বায়োপিক ঘরানায় শীর্ষে ছিল ছবিটি।
সংগীতশিল্পীদের জীবনভিত্তিক চলচ্চিত্রের ক্ষেত্রেও নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে ‘মাইকেল’। এর আগে Freddie Mercury-কে নিয়ে নির্মিত Bohemian Rhapsody ৯১ কোটি ১০ লাখ ডলার আয় করে শীর্ষস্থানে ছিল।
মুক্তির পর উত্তর আমেরিকার বাজার থেকে ছবিটি আয় করেছে ৩৭ কোটি ২০ লাখ ডলার। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এসেছে আরও ৬০ কোটি ৭২ লাখ ডলার। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্রে ৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার এবং বিশ্বব্যাপী ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার আয় করে সংগীতভিত্তিক বায়োপিকের উদ্বোধনী আয়ের রেকর্ডও ভেঙে দেয় সিনেমাটি।
ছবিটি পরিচালনা করেছেন Antoine Fuqua। এতে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তার ভাতিজা Jaafar Jackson। এ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিনয়ে অভিষেক হয়েছে তার।
চলচ্চিত্রটিতে মাইকেল জ্যাকসনের শৈশব, The Jackson 5-এর সদস্য হিসেবে তার উত্থান এবং পরবর্তীতে ‘কিং অব পপ’ হয়ে ওঠার যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে। দর্শকদের মতে, মঞ্চ পরিবেশনা ও জনপ্রিয় গানগুলোর উপস্থাপনাই ছবিটির সাফল্যের অন্যতম কারণ।
বক্স অফিসে এই অভূতপূর্ব সাফল্যের ফলে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান Lionsgate Studios-এর ইতিহাসেও এটি সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রে পরিণত হয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ আয়কারী সিনেমা ছিল The Hunger Games: Catching Fire।
তবে বাণিজ্যিকভাবে সফল হলেও ছবিটি সমালোচনার মুখেও পড়েছে। সমালোচকদের একাংশের অভিযোগ, মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের বিতর্কিত অধ্যায়গুলো চলচ্চিত্রে খুব সীমিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ফলে তার ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আলোচিত বিষয় যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি বলে মত দিয়েছেন তারা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।