ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দুই উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার (সেকমো)-কে শৃঙ্খলাজনিত কারণে বদলি করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ময়মনসিংহের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. ফয়সল আহমেদ গত ২৯ জুন এক আদেশে সেকমো মোহাম্মদ মফিজুর রহমানকে গৌরীপুর উপজেলার বাড়িঝুরি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এবং মো. মিজানুর রহমানকে শাহনাটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বদলি করেন। তাদের তিন কর্মদিবসের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
বদলির আদেশ সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শৃঙ্খলাজনিত কারণে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি ফুলপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেকমোদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাহাত চৌধুরী জরুরি বিভাগের দায়িত্বে পরিবর্তন এনে নতুন ইনচার্জ নিয়োগ দেন এবং একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন।
জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অর্থোপেডিক) ডা. মো. আব্দুল মুন্নাফের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের কমিটি প্রায় দুই সপ্তাহ তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করে। সরেজমিন পরিদর্শন, নথিপত্র পর্যালোচনা এবং তথ্য-উপাত্ত যাচাই শেষে কমিটি গত ৭ জুন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, বদলিকৃত দুই সেকমো জরুরি বিভাগে আসা রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়, রেজিস্টারে সিরিয়াল নম্বরের অনিয়ম, একই নম্বর একাধিক রোগীর নামে ব্যবহার এবং ভুয়া নম্বর সংযোজনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পাশাপাশি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাবেক জরুরি বিভাগ ইনচার্জ রুবেল মিয়ার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে অস্ত্রোপচারের যন্ত্রপাতি জীবাণুমুক্ত করার যন্ত্র ব্যবহারে অবহেলার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে মো. সাব্বির হোসেন নামে আরও এক সেকমোকে ঘিরেও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।