সম্প্রতি ৫০০ ও ১ হাজার টাকার নোট বাতিলের প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সরকার স্পষ্ট করেছে, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি এবং বর্তমানে প্রচলিত সব নোট আগের মতোই বৈধ।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, একটি দেশ কেন ব্যাংক নোট বাতিল করে এবং এমন সিদ্ধান্তের পেছনে কী ধরনের কারণ কাজ করে?
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাধারণ সময়ে নয়, বরং বিশেষ পরিস্থিতিতে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংক নোট বাতিলের মতো সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরির মতে, অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বা বড় অর্থনৈতিক প্রয়োজন দেখা দিলে এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিবেচনায় আসে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, নোট বাতিলের অন্যতম বড় উদ্দেশ্য হলো অর্থনীতিতে থাকা অঘোষিত বা কালো টাকার প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা। অনেক সময় নগদ অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনতেও এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিস) এর গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, দেশে যদি বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ আনুষ্ঠানিক অর্থনীতির বাইরে থেকে যায়, তাহলে সরকার নোট পরিবর্তন বা বাতিলের মাধ্যমে সেই অর্থ ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আনতে উদ্যোগ নিতে পারে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, কালো টাকা বলতে শুধু ঘুষ বা দুর্নীতির অর্থ বোঝায় না। বৈধভাবে আয় করা অর্থও যদি আয়কর বিবরণীতে দেখানো না হয় বা কর পরিশোধ না করা হয়, তবে সেটিও কালো টাকার আওতায় পড়ে।
এ ছাড়া জাল নোটের বিস্তার ঠেকানোও নোট বাতিলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। নতুন নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত নোট চালু করতে অনেক দেশ পুরোনো নোট বাতিল করেছে।
বাংলাদেশেও এর নজির রয়েছে। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে জাল নোটের বিস্তার রোধে জলছাপবিহীন কয়েকটি ব্যাংক নোট বাতিল করা হয়েছিল।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশ দুর্নীতি, সন্ত্রাসে অর্থায়ন রোধ কিংবা বড় রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সময়ও পুরোনো নোট বাতিল করে নতুন মুদ্রা চালু করেছে। ২০১৬ সালে ভারতে ৫০০ ও ১ হাজার রুপির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তও এ ধরনের কারণের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে অর্থনীতিবিদরা উল্লেখ করেন।
সাধারণত কোনো দেশের সরকার নোট বাতিল করলে জনগণকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেই নোট ব্যাংকে জমা বা পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে অর্থনৈতিক কার্যক্রমে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি না হয়।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।