বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ২৫ হাজার বিদেশি নাগরিক অবস্থান করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক অবৈধভাবে বসবাস করছেন ভারতীয় নাগরিকরা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে অবৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৮ হাজার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের সমন্বয়ে একটি বিশেষ দল বিদেশি নাগরিকদের তথ্য যাচাই করছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যারা তাদের আশ্রয় দিয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি হিসাবে প্রকাশিত সংখ্যার বাইরে আরও অবৈধ বিদেশি নাগরিক দেশে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে প্রায় পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের বৈধ ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া বায়িং হাউস, বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, তথ্যপ্রযুক্তি খাত এবং বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাতেও ভারতীয় নাগরিকদের কাজ করার তথ্য পাওয়া গেছে। অনেকেই মার্চেন্ডাইজার, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার ও ফ্লোর ম্যানেজারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করছেন।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বাংলাদেশে ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক কর্মরত থাকার দাবি করেছিলেন। সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অনেক বিদেশি নাগরিক দেশে থেকে কর্মসংস্থানে যুক্ত হচ্ছেন। এতে একদিকে সরকার কর রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে অবৈধ অর্থ লেনদেনের ঝুঁকিও বাড়ছে। হুন্ডির মাধ্যমে অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগও রয়েছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশে অবস্থানরত সব বিদেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষণের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ডেটাবেজ তৈরির কাজ চলছে। পাশাপাশি ওয়ার্ক পারমিট ছাড়া বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা এবং স্বল্পমেয়াদি ভিসায় এসে কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া ব্যক্তিদের শনাক্তে ভিসা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ভারতের ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় থাকা খুলনা দর্শনা ডাবল লাইন রেলপথ এবং পার্বতীপুর কাউনিয়া রেলপথ রূপান্তর প্রকল্প আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে বিকল্প অর্থায়নের মাধ্যমে বগুড়া সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।