মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তার ব্যক্তিগত অনুরোধের কারণেই চীন, রাশিয়া এবং তুরস্ক ইরানকে সমর্থন দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সরাসরি জড়ায়নি।
বুধবার এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ সরাসরি সম্পৃক্ত হতে পারত। তবে তাদের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে দাবি করেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগানের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, আঙ্কারা চাইলে সংঘাতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারত। বিশেষ করে ইসরাইলবিরোধী অবস্থানের কারণে তুরস্কের সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তবে তিনি এরদোগানকে সংঘাতের বাইরে থাকার অনুরোধ করেছিলেন এবং তুর্কি নেতা সেই আহ্বানে সাড়া দিয়েছেন বলে জানান।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্পর্কেও একই ধরনের মন্তব্য করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আমদানির কারণে বেইজিংয়ের এই সংঘাতে আগ্রহী হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু শি জিনপিং নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রেখেছেন।
ট্রাম্পের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি চীনা প্রেসিডেন্টকে সরাসরি অনুরোধ করেছিলেন যাতে বেইজিং সংঘাতে জড়িয়ে না পড়ে এবং সেই অনুরোধ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে।
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রসঙ্গেও ট্রাম্প বলেন, মস্কোও সংঘাতে সরাসরি অংশ নেয়নি। যদিও রাশিয়ার আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে, তবুও তারা এই সংঘাতে নিজেদের সম্পৃক্ত করেনি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, বিশ্বের তিন প্রভাবশালী নেতা সংঘাত থেকে দূরে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও বড় আকার ধারণ করা থেকে রক্ষা পেয়েছে।
তিনি বলেন, চীন, রাশিয়া এবং তুরস্কের মতো শক্তিধর দেশগুলো সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল হয়ে যেতে পারত। তাদের নিরপেক্ষ অবস্থান আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
সূত্র: তাস
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।