মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর ফলে বাংলাদেশের বাজারেও জ্বালানির দাম কমার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, আন্তর্জাতিক বাজারে দর কমলেও এখনই দেশের বাজারে তেলের মূল্য হ্রাসের সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, অতীতে বেশি দামে আমদানি করা জ্বালানি তেল তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে বড় ধরনের আর্থিক চাপের মুখে পড়েছে সংস্থাটি। গত কয়েক মাসে বিপিসির লোকসানের পরিমাণ কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে জানা গেছে।
খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। সে সময় উচ্চমূল্যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। বর্তমানে বিশ্ববাজারে দাম কমলেও সেই পুরোনো ব্যয়ের প্রভাব এখনো বহন করছে বিপিসি।
বিপিসির কর্মকর্তাদের মতে, ডিজেল আমদানিতে এখনো ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক স্বস্তি এলেও দেশের বাজারে দাম সমন্বয়ের আগে আর্থিক পরিস্থিতি এবং ভবিষ্যৎ বাজার প্রবণতা বিবেচনায় নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত। তবে এর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। কারণ স্থানীয় বাজারে মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক দর নয়, আমদানি ব্যয়, কর, শুল্ক, পরিবহন খরচ এবং পূর্ববর্তী আর্থিক দায়ও বিবেচনায় নেওয়া হয়।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। ডিজেল, অকটেন, পেট্রোলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি নির্ধারিত চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত পরিমাণে সংরক্ষিত আছে। একই সঙ্গে আগামী কয়েক মাসের জন্য নতুন আমদানির ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সরকার। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বিশ্ববাজারে দরপতন দীর্ঘমেয়াদি হলে এবং আমদানি ব্যয় আরও কমে এলে ভবিষ্যতে দেশের বাজারে জ্বালানির দাম পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে।
তবে আপাতত ভোক্তাদের জন্য বড় ধরনের মূল্যহ্রাসের সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নেই। বাজার পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ আমদানি ব্যয়ের ওপরই নির্ভর করবে জ্বালানির পরবর্তী মূল্য নির্ধারণ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।