পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে মানবাধিকারকর্মী মাহরাং বালুচ এবং তার সহযোগী সিবঘাতুল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। রায় ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
আদালত জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির সময় আধাসামরিক বাহিনীর এক সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনায় আনা হত্যা ও সন্ত্রাসবাদ সংশ্লিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই রায় দেওয়া হয়েছে।
মাহরাং বালুচ গত মার্চ মাস থেকে আটক রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বেলুচিস্তানে কথিত গুম, জোরপূর্বক নিখোঁজ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে সরব ছিলেন। এ কারণে তিনি দেশটির মানবাধিকার অঙ্গনে পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হন।
রায় ঘোষণার পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ছিল। অভিযুক্তদের আদালতে ভার্চুয়ালি হাজির হওয়ার সুযোগ থাকলেও তারা বিচার কার্যক্রমে অংশ নেননি বলে জানা গেছে।
সমালোচকদের মতে, এমন রায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে বেলুচিস্তান প্রশাসনের দাবি, মামলাটির বিচার আইনানুগ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়েছে। প্রাদেশিক মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেছেন, নিহত নিরাপত্তা সদস্যের পরিবারের জন্য এই রায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের আড়ালে সহিংস কর্মকাণ্ড পরিচালনা কিংবা রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে রায়ের প্রতিবাদে বালুচ ইয়াকজেহতি কমিটি (বিওয়াইসি) প্রদেশজুড়ে ধর্মঘট কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনটির নেতারা বিচারপ্রক্রিয়াকে অস্বচ্ছ বলে দাবি করেছেন।
মাহরাং বালুচের আইনজীবী ইসরার জাট্টাক জানিয়েছেন, তারা রায়ের বিরুদ্ধে বেলুচিস্তান হাইকোর্টে আপিল করবেন। ফলে আলোচিত এই মামলাটি এখন উচ্চ আদালতেও গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।