ইসলামী বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সংহতি আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি মনে করেন, মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দেশটির সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট।
বৈঠকে পেজেশকিয়ান বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বাস্তবতায় মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আঞ্চলিক সংকট নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে দেশটির সরকার, জনগণ এবং সামরিক নেতৃত্বের অবদানকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইরানের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপের মুখেও ইরান সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র বাহিনী ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে। এই ঐক্যই দেশটির প্রধান শক্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পেজেশকিয়ান আরও বলেন, তেহরান ও ইসলামাবাদের সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হতে পারে। বিশেষ করে বাণিজ্য, অর্থনীতি, জ্বালানি, কৌশলগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক উন্নয়ন খাতে দুই দেশের মধ্যে নতুন সুযোগ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি মুসলিম বিশ্বের বিপুল মানবসম্পদ, অর্থনৈতিক সক্ষমতা এবং রাজনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ইরানের নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মুসলিম বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমর্থন সময়ের দাবি। কোনো মুসলিম দেশকে সংকটের মুখে একা ফেলে রাখা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের প্রশ্নটি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের এই আহ্বান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।