কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য নাশকতা ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার দিনভর সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সরব উপস্থিতি দেখা যায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড় ও প্রবেশপথগুলোতে।
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্ভাব্য অপতৎপরতা প্রতিরোধে নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে তাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি।
পুরান ঢাকার হোসেনি দালান ইমামবাড়ায় আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর নামে মিছিল, সমাবেশ কিংবা অন্যান্য কর্মসূচির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা ছিল। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সতর্ক অবস্থানের কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।
ডিএমপি কমিশনার জানান, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সম্ভাব্য জমায়েত ও ঝটিকা মিছিলের বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতে কয়েক দিন ধরেই ঢাকার প্রবেশমুখ, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়।
মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ধানমন্ডি, শাহবাগ, গুলিস্তানসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে। পাশাপাশি মোবাইল টহল ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সদস্যদের তৎপরতাও ছিল চোখে পড়ার মতো।
বিশেষ করে ধানমন্ডি-৩২ এবং গুলিস্তানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এসব এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবি ও অন্যান্য সংস্থার সদস্যদের অবস্থান দেখা গেছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্র জানায়, সম্ভাব্য সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ, রংপুর, বগুড়া, পিরোজপুর, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৫৭ জনকে আটক বা গ্রেফতার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও গোয়েন্দা নজরদারি আগামী কয়েকদিন অব্যাহত থাকবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।