ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের সময় আন্দোলনকারীদের যোগাযোগ সচল রাখতে স্টারলিংক ডিভাইস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন ইসরাইলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট।
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বেনেটের এই বক্তব্য উঠে আসে। তার দাবি, ইরানে ইন্টারনেট সংযোগ বজায় রাখতে বিপুলসংখ্যক স্টারলিংক রিসিভার সংগ্রহ ও সরবরাহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
বেনেটের ভাষ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভ চলাকালে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি অভিযোগ করেন, পরিকল্পনাটি পুরোপুরি বাস্তবায়নের আগেই বর্তমান ইসরাইলি সরকার তা এগিয়ে নেওয়া থেকে সরে আসে।
স্পেসএক্স পরিচালিত স্টারলিংক স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা প্রদান করে। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখতে এ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হলেও ইরানে এর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেই।
এর আগে তেহরান একাধিকবার অভিযোগ করেছে, বিদেশি শক্তিগুলো দেশটির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে প্রভাব বিস্তারের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তিগত উপায় ব্যবহার করছে। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ভিন্ন।
বেনেট দাবি করেন, আন্দোলনকারীদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদার করার উদ্দেশ্যেই স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তার মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
তবে এ বিষয়ে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একইভাবে স্পেসএক্সও এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে বিভিন্ন আন্দোলন ও রাজনৈতিক অস্থিরতার সময় ইন্টারনেট সীমিত বা বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেক নাগরিক বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা ব্যবহারের চেষ্টা করেছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বেনেটের এই বক্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি, প্রযুক্তি ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্ক উসকে দিতে পারে। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে বিদেশি ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে যে আলোচনা চলছে, তার মধ্যেই এ দাবি সামনে এলো।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।