ফুটবলের ইতিহাসে কিছু দিন আছে, যেগুলো কেবল ক্যালেন্ডারের তারিখ নয়, হয়ে ওঠে আবেগের প্রতীক। ২২ জুন আর্জেন্টাইন ফুটবলের জন্য তেমনই এক দিন। চার দশক আগে এই দিনেই বিশ্বকাপের মঞ্চে অমরত্ব লাভ করেছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। আর ঠিক সেই দিনেই নতুন ইতিহাস লিখে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এলেন লিওনেল মেসি।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি শুরু হয়েছিল হতাশা দিয়ে। ম্যাচের শুরুতেই পাওয়া পেনাল্টি কাজে লাগাতে পারেননি মেসি। বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডে নাম লেখান তিনি। মুহূর্তটি অনেকের কাছে মনে করিয়ে দেয় ডালাস শহরের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ম্যারাডোনার বেদনাময় স্মৃতিকে।
১৯৯৪ বিশ্বকাপে এই ডালাসেই শেষ হয়ে গিয়েছিল ম্যারাডোনার বিশ্বকাপ স্বপ্ন। ডোপ টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পর তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। সেই ঘটনায় ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনা এবং শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকেও বিদায় নেয় দলটি।
৩২ বছর পর একই শহরে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একজন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। তবে এবার গল্পের সমাপ্তি ছিল ভিন্ন।
পেনাল্টি মিসের হতাশা কাটিয়ে ম্যাচে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়ান মেসি। পরপর দুটি গোল করে তিনি শুধু দলকে জয়ই এনে দেননি, ভেঙেছেন বিশ্বকাপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ রেকর্ডও।
জোড়া গোলের প্রথমটিতেই তিনি ছাড়িয়ে যান জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে উঠে বসেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।
এই অর্জনের বিশেষত্ব আরও বেড়ে যায় তারিখের কারণে। কারণ ১৯৮৬ সালের ২২ জুনই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ উপহার দিয়ে ফুটবল ইতিহাসে চিরস্থায়ী স্থান করে নিয়েছিলেন ম্যারাডোনা।
ফলে ২২ জুনের রাতটি আর্জেন্টাইন সমর্থকদের কাছে হয়ে ওঠে দুই প্রজন্মের দুই কিংবদন্তির গল্পের এক অদ্ভুত সংযোগ। একদিকে ম্যারাডোনার স্মৃতিবিজড়িত দিন, অন্যদিকে মেসির নতুন রেকর্ড।
ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই মনে করছেন, ডালাসের এই রাত শুধুই একটি ম্যাচের গল্প নয়। এটি আর্জেন্টাইন ফুটবলের দুই মহাতারকার ইতিহাসকে একই সুতোয় গেঁথে দেওয়া এক বিরল মুহূর্ত। যেখানে বেদনার স্মৃতি, গৌরবের ইতিহাস আর নতুন রেকর্ড একসঙ্গে জায়গা করে নিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।