চিত্রনায়ক সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি বাতিল করা হয়নি। বরং এ বিষয়ে করা বাদীপক্ষের আবেদনটি নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ফলে এর আগে দেওয়া লাশ উত্তোলনের অনুমতি কার্যকর থাকছে।
মঙ্গলবার ঢাকার একটি আদালতে এ বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে প্রথমদিকে আদেশ নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি তৈরি হলেও পরে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করে যে আদালত আবেদনটি গ্রহণ করেননি, শুধু নথিভুক্ত করেছেন।
আদালত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলমান তদন্তাধীন মামলায় এ ধরনের আবেদন সরাসরি মঞ্জুর করার সুযোগ সীমিত। সে কারণে আবেদনটি রেকর্ডে সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম এবং তার আইনজীবী। তাদের দাবি, আদালতে আদেশ ঘোষণার সময় যে বার্তা পাওয়া গিয়েছিল, পরে তার ভিন্ন ব্যাখ্যা সামনে আসে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী বলেন, প্রকাশ্য আদালতে আদেশ ঘোষণার পর পরবর্তী সময়ে ভিন্ন তথ্য জানানো হওয়ায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় আরও স্পষ্টতা থাকা প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল, দীর্ঘ প্রায় তিন দশক আগে দাফন করা মরদেহ থেকে বর্তমানে কার্যকর আলামত পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই সীমিত। পাশাপাশি বারবার লাশ উত্তোলন ধর্মীয় ও সামাজিক সংবেদনশীলতার বিষয়ও সৃষ্টি করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।
এর আগে গত ২৪ মে আদালত তদন্ত সংস্থার আবেদনের পর সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের অনুমতি দেন। একই সঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং প্রয়োজনীয় ময়নাতদন্ত কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের অক্টোবরে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাকে অপমৃত্যু নয়, হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেয় আদালত। পরে তার মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় এই নায়কের মরদেহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। প্রায় তিন দশক পরও তার মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে রহস্য ও আলোচনা থেমে নেই।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।