বিশ্বকাপের মঞ্চে ২৮ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাল নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের দুর্দান্ত জোড়া গোলে সেনেগালকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে টুর্নামেন্টের শেষ ৩২ নিশ্চিত করেছে ইউরোপের দলটি।
গ্রুপ ‘আই’-এর ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে দেখা যায় নরওয়েকে। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেই চাপের ফলও পায় তারা। ৪৩ মিনিটে পেদেরসেনের গোলে এগিয়ে যায় নরওয়ে এবং ১-০ ব্যবধান নিয়ে বিরতিতে যায়।
বিরতির পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে নরওয়ের আক্রমণভাগ। ৪৮ মিনিটে আর্লিং হালান্ড গোল করে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। তবে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করেনি সেনেগাল। ইসমাইলা সার গোল করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেন।
কিন্তু নরওয়ের জয়ের নায়ক হতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন হালান্ড। সতীর্থের ক্রস থেকে দারুণ ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। তাতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৩-১।
ম্যাচের শেষদিকে আবারও আঘাত হানে সেনেগাল। যোগ করা সময়ে ইসমাইলা সার নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান কমালেও সমতায় ফিরতে পারেনি আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
এর আগে ম্যাচের প্রথমার্ধে হালান্ডকে একাধিকবার থামিয়ে আলোচনায় ছিলেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মেন্ডি। বিশেষ করে ৩৫ মিনিটে তার দুর্দান্ত সেভ নরওয়েকে গোলবঞ্চিত করেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত হালান্ডের ধারালো আক্রমণের সামনে টিকে থাকতে পারেনি সেনেগাল।
এই জয়ের ফলে টানা দুই ম্যাচে দুই জয় তুলে নিয়ে ৬ পয়েন্ট অর্জন করেছে নরওয়ে। প্রথম ম্যাচে ইরাককে ৪-১ গোলে হারানোর পর এবার সেনেগালকে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই নকআউট পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল তারা।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে ১৯৯৮ সালের পর এবারই প্রথম শেষ ৩২-এর মঞ্চে খেলবে নরওয়ে। আর সেই স্বপ্নপূরণের কেন্দ্রে রয়েছেন তাদের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। তার ধারাবাহিক গোল উৎসব নরওয়েকে এখন গ্রুপের অন্যতম শক্তিশালী দাবিদারে পরিণত করেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।