দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের ইলিশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি, সম্পদ সংরক্ষণ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণে দীর্ঘমেয়াদি ও বিজ্ঞানভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণের বিকল্প নেই।
সোমবার বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা (দ্বিতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্পের সমাপনী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ইলিশের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পানির মান রক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পবর্জ্য এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ নদীতে ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জাটকা নিধন, মা ইলিশ আহরণ এবং নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার বন্ধে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে শুধু ইলিশ নয়, দেশের অন্যান্য দেশীয় মাছের উৎপাদনও হুমকির মুখে পড়ছে।
জেলেদের জীবনমান উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি বলেন, উপকূল ও নদীকেন্দ্রিক অনেক জেলে এখনও দাদননির্ভর জীবনযাপন করেন। তাদের বিকল্প কর্মসংস্থান, প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ উপদেষ্টা দল গঠনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান তিনি। এই দলের সুপারিশের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ নীতিমালা ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, বাংলাদেশের খাদ্যসংস্কৃতিতে ইলিশের বিশেষ স্থান রয়েছে। বিশ্বের মোট ইলিশ উৎপাদনের বড় অংশই বাংলাদেশে হয়, ফলে আন্তর্জাতিক বাজারেও এ মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সম্পদ হিসেবে ইলিশকে সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ইলিশের সুনাম আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।