দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ঢাকা সহ ৬টি এলাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক সেনাসদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-২ শাখা থেকে জারি করা এক জরুরি চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত কিছু সংগঠন বিভিন্ন স্থানে বেআইনি কর্মসূচি, মিছিল ও শোডাউনের মাধ্যমে নাশকতা এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এতে জননিরাপত্তা ও জানমালের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকা, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকা, গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকা, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুর জেলায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী কাজ করবে।
এদিকে আগামী ২৩ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ২০০টির বেশি বিশেষ পিকেট ও চেকপোস্ট বসানো হবে। একই সঙ্গে ঢাকার প্রবেশপথগুলোতে বাড়ানো হবে তল্লাশি ও নজরদারি।
নগরজুড়ে নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নেবে ডিবি, সিটিটিসি, স্পেশাল ব্রাঞ্চ এবং অন্যান্য গোয়েন্দা ইউনিট। যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা মোকাবিলায় তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে।
জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি চারটি প্রধান কন্ট্রোল রুমে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ও রিজার্ভ ফোর্স স্ট্যান্ডবাই থাকবে।
ডিএমপি জানিয়েছে, রাজধানীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি ডিএমপি কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করবেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্ভাব্য যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এবার রাজধানী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।