বিশ্বকাপে টিকে থাকার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ এক জয় তুলে নিয়েছে প্যারাগুয়ে। উত্তেজনা, বিতর্ক আর লাল কার্ডে ভরা ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। অন্যদিকে এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়েছে তুরস্কের।
ম্যাচের শুরুতেই ইতিহাস গড়ে বসেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মাতিয়াস গালার্জা। খেলা শুরুর মাত্র ৬৪ সেকেন্ডের মাথায় দূরপাল্লার দুর্দান্ত শটে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।
এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপের দ্রুততম গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েন গালার্জা। কয়েক ঘণ্টা আগেই গড়া আগের রেকর্ড ভেঙে দেন তিনি।
গোল হজম করার পর সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। একটি ফ্রি কিক থেকে তৈরি হওয়া আক্রমণে মের্ত মুলদুরের হেড লক্ষ্যভেদ করতে পারলে ম্যাচের চিত্র বদলে যেতে পারত। তবে ক্রসবার তাদের হতাশ করে।
প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে ম্যাচে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। এক ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।
এরই মধ্যে ভিএআর পর্যালোচনার পর প্যারাগুয়ের তারকা মিগেল আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী মুখ ঢেকে প্রতিপক্ষকে উদ্দেশ্য করে মন্তব্য করায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
একজন কম নিয়ে খেলতে হলেও প্যারাগুয়ে রক্ষণে দারুণ শৃঙ্খলা দেখায়। দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকবার ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগও তৈরি করেছিল তারা। তবে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত স্কোরলাইন আর বদলায়নি।
অন্যদিকে ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল তুরস্ক। যোগ করা সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে মেরিহ দেমিরালের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে শেষ হয়ে যায় তাদের প্রত্যাবর্তনের আশা।
শেষ পর্যন্ত শুরুতে পাওয়া একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে। ১০ জনের দল নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নেওয়া দলটি এখনো নকআউটের লড়াইয়ে টিকে আছে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচেই হারায় বিশ্বকাপ মিশনের ইতি ঘটল তুরস্কের।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।