দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারকে আনুষ্ঠানিকভাবে সই করেছেন দুই দেশের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বুধবার রাতে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হওয়া এই স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ এবং তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের উদ্দেশ্যে প্রণীত সমঝোতা স্মারকে ইলেকট্রনিক স্বাক্ষর করেন দুই নেতা। উভয় পক্ষ জানিয়েছে, চুক্তিটি স্বাক্ষরের পর থেকেই কার্যকর হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি-৭ সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলন-পরবর্তী এক অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির নথিতে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
চুক্তির মূল লক্ষ্য হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা প্রশমিত করা এবং সংঘাতের অবসান ঘটানো। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, সমঝোতার আওতায় ইরান পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়ন বা সংগ্রহের পথে এগোবে না।
একই সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির অবসান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করার বিষয়ও চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
কূটনৈতিক মহলের অনেকেই এই সমঝোতাকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে চুক্তির দীর্ঘমেয়াদি বাস্তবায়ন ও এর কার্যকারিতা এখন পর্যবেক্ষণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, উভয় পক্ষ যদি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়নে আন্তরিক থাকে, তাহলে এটি শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই নয়, পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতায়ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে চুক্তি কার্যকর হওয়ার ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত কমানোর পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।