চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপে বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দলের অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানেকে তিন ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে ফিফা, ফলে গ্রুপ পর্বের বাকি সব ম্যাচ থেকেই ছিটকে গেলেন তিনি।
মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে সরাসরি লাল কার্ড দেখার পর স্বয়ংক্রিয় এক ম্যাচ নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি আরও দুই ম্যাচের শাস্তি যোগ করেছে ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি।
৩৬ বছর বয়সী জোয়ানে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ আফ্রিকার মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মুখ। জাতীয় দলের হয়ে ৫৫ ম্যাচে ১২ গোল করা এই ফুটবলারকে ছাড়া এখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দলটি।
গত ১১ জুন আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ৬১তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন জোয়ানে। তবে ম্যাচের শেষভাগে একটি ট্যাকলের ঘটনায় ভিএআরের সহায়তায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন ম্যাচ কর্মকর্তা। পরে মেক্সিকোর রবের্তো আলভারাদোর ওপর গুরুতর ফাউলের অভিযোগে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো হয়।
ঘটনার পর ফিফা সেটিকে ‘গুরুতর ফাউল প্লে’ হিসেবে বিবেচনা করে অতিরিক্ত দুই ম্যাচ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। যদিও দক্ষিণ আফ্রিকা চাইলে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবে।
ম্যাচে জোয়ানের পারফরম্যান্সও খুব একটা প্রভাব ফেলতে পারেনি। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে তিনি সীমিত সময় খেলেছেন এবং উল্লেখযোগ্য কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি।
তবে শাস্তির মাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রধান কোচ হুগো ব্রুস। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, ঘটনাটি সরাসরি লাল কার্ডের মতো গুরুতর ছিল কি না, তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ রয়েছে। তার মতে, প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়ের সঙ্গেও শারীরিক সংঘর্ষের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।
অন্যদিকে একই ম্যাচে বহিষ্কৃত ফেলেলো সিথোলের লাল কার্ড নিয়ে কোনো আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন এই কোচ।
প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পর এখন আরও চাপে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বৃহস্পতিবার আটলান্টায় চেক প্রজাতন্ত্রের মুখোমুখি হবে দলটি। নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখতে ম্যাচটি তাদের জন্য অনেকটা বাঁচা-মরার লড়াই হয়ে উঠেছে।
জোয়ানের অনুপস্থিতিতে মাঝমাঠের ভারসাম্য ধরে রাখা এবং আক্রমণভাগে কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।