চট্টগ্রামে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ করে হত্যা এবং পরে লাশ ছয় টুকরো করে সাগর ও খালের পাড়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি আবীর আলীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত শনিবার মামলার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। বিচারিক প্রক্রিয়ায় মোট ৩৩ জন সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মোহাম্মদ রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন, উদ্ধারকৃত আলামত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। আদালত সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেন।
আদালত পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, ঘটনাটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত, নির্মম ও নৃশংস এবং এটি সমাজে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন বলেন, ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্ক শেষে আদালত এই রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকায় সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এবং পিবিআইয়ের ছায়া তদন্তে বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ভাড়াটে আবীরই অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। ২৫ নভেম্বর তাকে গ্রেফতারের পর আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে অপহরণের পর পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে শিশুটিকে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। এতে আবীর এবং তার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক সহযোগীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ওই কিশোরের বিচার শিশু আদালতে আলাদাভাবে চলছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।