চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ করে হত্যা এবং পরে লাশ ছয় টুকরো করে সাগর ও খালে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. আবির আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা করেন।
রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন আসামি আবির আলী। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে এবং উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায় দেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকায় সোহেল রানার মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
পরবর্তীতে পুলিশের আবেদনের ভিত্তিতে তদন্তভার নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার ৯ দিন পর, ২৪ নভেম্বর রাতে আবির আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ওই পরিবারের সাবেক ভাড়াটিয়া ছিলেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আবির স্বীকার করেন, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করেন তিনি। তবে পরবর্তীতে যোগাযোগ জটিলতায় মুক্তিপণ আদায় সম্ভব হয়নি। একপর্যায়ে শিশুটি চিৎকার শুরু করলে পরিচয় প্রকাশের ভয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে তিনি জানান।
পরে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ নষ্ট করতে মরদেহ খণ্ডিত করে পতেঙ্গা আউটার রিং রোড সংলগ্ন সাগর ও আকমল আলী খালের মোহনায় ফেলে দেওয়া হয়।
পিবিআই পরে আকমল আলী খালের স্লুইস গেটের পাশ থেকে মরদেহের অংশ উদ্ধার করে। তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়।
এতে আবির আলীকে প্রধান আসামি করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি গোপন ও লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগে তার ১৭ বছর বয়সী এক সহযোগীকেও অভিযুক্ত করা হয়, যার বিচার শিশু আদালতে চলমান রয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।