রাজধানীর আদাবরে বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। গ্রেফতারদের মধ্যে রয়েছেন গ্রুপটির সেকেন্ড ইন কমান্ড হিসেবে পরিচিত আবু সাঈদ (৩৩)।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে র্যাব-২ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার গভীর রাতে মোহাম্মদপুর ও পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেফতার অন্যরা হলেন রাশেদ খন্দকার (৩২), মো. লিটন (২৮), মো. তৌসিফ (৩০) ও মো. তরিকুল ইসলাম (২৫)। অভিযানে তাদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব-২ এর সিপিএসসি কোম্পানি কমান্ডার হাসান মুহতারিম বলেন, গ্রুপটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একইসঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কাজও চলছে।
মঙ্গলবার সকালে আদাবরের একটি বিকাশ এজেন্ট দোকানে ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে। দোকান খোলার কিছুক্ষণ পর কয়েকজন যুবক ধারালো অস্ত্র নিয়ে ভেতরে ঢুকে এজেন্ট শফিকুল ইসলামের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে আহত করে নগদ প্রায় তিন লাখ টাকা ও বিকাশ লেনদেনের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে তথ্য পাওয়া যায়, হামলায় জড়িত কয়েকজন ঢাকা উদ্যান এলাকার একটি আস্তানায় অবস্থান করছে।
পরে সেখানে অভিযান চালাতে গেলে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র ও চাপাতি নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলাম জাহাঙ্গীর এবং এসআই তরুণ কুমার আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পাল্টা ব্যবস্থা নিলে চোরা রুবেল ও কানা আমির নামে দুইজন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তাদের আটক করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই অভিযানে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সক্রিয় রয়েছে কব্জি কাটা আনোয়ার গ্রুপ। সাম্প্রতিক সময়ে তাদের তৎপরতা আবারও বেড়েছে বলে দাবি করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্র বলছে, গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা পানি আনোয়ার বর্তমানে কারাগারে থাকলেও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবু সাঈদের নেতৃত্বে সংগঠনটি সক্রিয় রয়েছে। বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য বিভিন্ন এলাকায় তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গ্রুপটির বিরুদ্ধে অভিযান চলমান থাকবে এবং জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।