বিশ্ব ফুটবলে প্রযুক্তি ও নতুন নিয়মের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। রেফারিংয়ের মান উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং খেলার গতি আরও কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য একের পর এক পরিবর্তন আনা হচ্ছে। ডিআরএস যেমন ক্রিকেটে সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আরও নির্ভুল করেছে, তেমনি ফুটবলে ভিএআরও এখন ম্যাচ পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে আরেকটি নতুন নিয়ম, বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক। খেলোয়াড়দের পানি পান ও বিশ্রামের সুযোগ দিতে প্রথমার্ধ এবং দ্বিতীয়ার্ধে অতিরিক্ত বিরতি রাখা হয়েছে। কিন্তু এই নিয়ম নিয়েই শুরু হয়েছে বিস্তর বিতর্ক।
আগে ফুটবল মূলত দুই অর্ধের খেলা ছিল। মাঝখানে থাকত ১৫ মিনিটের বিরতি। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচের দুই অর্ধের মাঝামাঝি সময়ে কয়েক মিনিটের জন্য খেলা থামানো হচ্ছে। ফলে অনেকের মতে, ফুটবলের স্বাভাবিক প্রবাহে নতুন একটি বিরতি যুক্ত হয়েছে।
ফিফার যুক্তি পরিষ্কার। আধুনিক ফুটবলে খেলোয়াড়দের শারীরিক চাপ আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি। উচ্চ গতির দৌড়, প্রেসিং ফুটবল এবং ঘন সূচির কারণে শরীরে পানির ঘাটতি ও ক্লান্তির ঝুঁকি বাড়ছে। নির্দিষ্ট সময় পর পানি পান ও সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম খেলোয়াড়দের কর্মক্ষমতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
তবে সমালোচকদের প্রশ্নও কম নয়। তাদের মতে, ফুটবলাররা এতদিনও প্রয়োজন হলে থ্রো ইন, কর্নার বা খেলার সাময়িক বিরতির সময় পানি পান করতেন। গোলরক্ষকদের পোস্টের কাছেও পানির বোতল রাখার সুযোগ ছিল। ফলে আলাদা করে ম্যাচ থামানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আরেকটি বড় আলোচনা হচ্ছে বাণিজ্যিক স্বার্থ নিয়ে। অনেক সমর্থক ও বিশ্লেষকের ধারণা, এই অতিরিক্ত বিরতি সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নতুন বিজ্ঞাপন সময় তৈরি করছে। বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে কয়েক মিনিটের অতিরিক্ত সম্প্রচার সময়ও বিপুল অর্থনৈতিক মূল্য বহন করে।
কয়েকজন ফুটবল ব্যক্তিত্বও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর ধারাবাহিক গতি। একটি দল যখন আক্রমণের ছন্দে থাকে, তখন হঠাৎ বিরতি সেই মোমেন্টাম ভেঙে দিতে পারে। এতে ম্যাচের নাটকীয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক ভারসাম্যও প্রভাবিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ অবশ্য বলছেন, খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে এমন বিরতির যৌক্তিকতা রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে তাপমাত্রা বেড়েছে, ফলে উচ্চ পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শারীরিক ঝুঁকিও আগের তুলনায় বেশি।
ফলে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন একটি প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে। বাধ্যতামূলক হাইড্রেশন ব্রেক কি সত্যিই খেলোয়াড়দের সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, নাকি আধুনিক ফুটবলের ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিকীকরণের আরেকটি উদাহরণ? উত্তর যাই হোক, বিশ্বকাপের শুরুতেই নতুন এই নিয়ম আলোচনার অন্যতম বড় বিষয় হয়ে উঠেছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।