যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির ঘোষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আশার জন্ম দিলেও লেবানন ও সিরিয়া ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ইসরাইল। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নিরাপত্তার প্রয়োজন থাকলে লেবাননের দখলকৃত এলাকায় ইসরাইলি সেনাবাহিনী অবস্থান অব্যাহত রাখবে।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু বলেন, দক্ষিণ লেবাননে গড়ে তোলা নিরাপত্তা বেষ্টনী অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহারের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। একই সঙ্গে সিরিয়ার দখলকৃত এলাকাগুলোতেও ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইসরাইলকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে হবে।
নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হওয়ার খবর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি, আলোচনার কাঠামোর মধ্যে লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ফলে ইসরাইলের সাম্প্রতিক অবস্থান ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে জটিল করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
২০২৩ সালের শেষভাগ থেকে ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা ক্রমেই বাড়তে থাকে। পরবর্তীতে সেই সংঘাত পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযানে রূপ নেয়। বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের বেশ কিছু এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর উপস্থিতি রয়েছে।
এদিকে সম্প্রতি বৈরুতের উপকণ্ঠে ইসরাইলি হামলার ঘটনাও নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এমন পদক্ষেপ আঞ্চলিক শান্তি প্রচেষ্টার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন পক্ষের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর সেই প্রেক্ষাপটে নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।