বিশ্বকাপ মানেই গোল, জয়-পরাজয় আর নাটকীয়তা। তবে শুধু মাঠের পারফরম্যান্স নয়, কখনও কখনও একটি হলুদ বা লাল কার্ডও নির্ধারণ করে দিতে পারে কোনো দলের ভাগ্য। চলতি বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচেই সেই আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।
স্বাগতিক মেক্সিকো দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ গোলে হারালেও ম্যাচ শেষে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ছিল তিনটি লাল কার্ড। এতে ফিফার শৃঙ্খলাবিষয়ক নিয়ম এবং এর প্রভাব নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্পেপেলো সিথোলে দ্বিতীয়ার্ধে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। পরে ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে দলটির অধিনায়ক থেম্বা জোয়ানেকেও মাঠ ছাড়তে হয়। অতিরিক্ত সময়ে মেক্সিকোর সিজার মন্টেস লাল কার্ড দেখলে ম্যাচটি শেষ হয় তিনটি লাল কার্ডের ঘটনাসহ।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়রা পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না। তবে বিষয়টি শুধু সাসপেনশনেই সীমাবদ্ধ নয়। গ্রুপ পর্বে সমান পয়েন্ট, সমান গোল ব্যবধান এবং সমান গোলসংখ্যা হলে ফেয়ার প্লে রেকর্ডও বিবেচনায় আসে।
ফেয়ার প্লে সূচকে প্রতিটি হলুদ ও লাল কার্ডের জন্য দলকে নির্দিষ্ট পয়েন্ট হারাতে হয়।
একটি হলুদ কার্ডের জন্য মাইনাস ১ পয়েন্ট, দুটি হলুদ থেকে পাওয়া লাল কার্ডের জন্য মাইনাস ৩ পয়েন্ট, সরাসরি লাল কার্ডের জন্য মাইনাস ৪ পয়েন্ট এবং একই ম্যাচে হলুদ কার্ডের পর সরাসরি লাল কার্ড দেখলে মাইনাস ৫ পয়েন্ট কাটা হয়।
যে দলের শাস্তিমূলক পয়েন্ট কম থাকে, তারা ফেয়ার প্লে সূচকে এগিয়ে থাকে এবং প্রয়োজন হলে সেটিই নির্ধারণ করে দেয় কোন দল পরের রাউন্ডে যাবে।
বিশ্বকাপ ইতিহাসে এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপে জাপান ও সেনেগাল সমান পয়েন্ট, সমান গোল ব্যবধান এবং সমান গোলসংখ্যা নিয়ে গ্রুপ পর্ব শেষ করেছিল। তখন ফেয়ার প্লে রেকর্ডে এগিয়ে থাকায় জাপান নকআউট পর্বে জায়গা করে নেয়। সেনেগালের তুলনায় কম হলুদ কার্ড পাওয়াই তাদের জন্য বড় পার্থক্য গড়ে দেয়।
ফলে বিশ্বকাপে শুধু গোল করা বা ম্যাচ জেতাই নয়, মাঠে শৃঙ্খলা বজায় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় একটি অপ্রয়োজনীয় ফাউল কিংবা একটি লাল কার্ড পুরো দলের টুর্নামেন্ট ভাগ্য বদলে দিতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।