যুদ্ধ, কূটনৈতিক টানাপোড়েন ও ভিসা জটিলতার মতো একের পর এক বাধা পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে নামছে ইরান। তবে মাঠের বাইরের এসব বিতর্ককে পাশে সরিয়ে রেখে ফুটবলেই মনোযোগ দিতে চান দলটির কোচ আমির গালেনোয়ি।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে গালেনোয়ি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তারা রাজনীতি নয়, ফুটবল খেলতে এসেছেন। মাঠের বাইরের পরিস্থিতি নিয়ে নয়, দলের লক্ষ্য শুধুই ভালো পারফরম্যান্স করা।
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামে গ্রুপ জি’র ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে ইরান। তবে ম্যাচের আগে আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
গত কয়েক সপ্তাহে আঞ্চলিক উত্তেজনা, সামরিক হামলা ও কূটনৈতিক সংকটের কারণে ইরানের প্রস্তুতি পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আসে। ভিসা জটিলতার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে নির্ধারিত অনুশীলন ক্যাম্প বাতিল করে দলটিকে মেক্সিকোর তিজুয়ানায় প্রস্তুতি চালাতে হয়। প্রতিনিধিদলের কয়েকজন সদস্য এখনও প্রয়োজনীয় ভ্রমণ অনুমোদন পাননি বলেও জানা গেছে।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত নিরসনের লক্ষ্যে সমঝোতার খবর কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে। এতে অন্তত যুদ্ধের আশঙ্কা কমেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর মধ্যেও লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থানরত কিছু প্রবাসী ইরানির বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা নিয়ে আলোচনা চলছে। ফলে মাঠের বাইরের পরিবেশ পুরোপুরি শান্ত নয়।
এসব প্রসঙ্গে গালেনোয়ি বলেন, প্রতিটি দেশের নিজস্ব চ্যালেঞ্জ থাকে। তবে সেসব বিষয় ফুটবল মাঠের পারফরম্যান্সকে প্রভাবিত করা উচিত নয়। তার মতে, ইরান দল দেশের ভেতর ও বাইরের সব ইরানির প্রতিনিধিত্ব করছে।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, বরং কঠিন সময় অতিক্রম করে নতুন করে এগিয়ে যাওয়ারও প্রতীক। নানা সংকটের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে পৌঁছানো ইরান এখন মাঠের খেলাতেই নিজেদের পরিচয় তুলে ধরতে চায়।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।