প্রায় দুই দশক পর আবারও আলজেরিয়ার বিপক্ষে মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন লিওনেল মেসি। ২০০৭ সালে এক প্রীতি ম্যাচে এই আফ্রিকান দলের বিপক্ষে স্মরণীয় পারফরম্যান্স করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে সেই প্রতিপক্ষকে ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
২০০৭ সালের জুনে বার্সেলোনার ক্যাম্প ন্যু স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়া। সে সময় আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের অবস্থান শক্ত করার পথে ছিলেন মেসি। অভিজ্ঞ তারকাদের ভিড়ে তরুণ এই ফরোয়ার্ডই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের অন্যতম প্রধান নায়ক হয়ে ওঠেন।
রোমাঞ্চে ভরা সেই ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। তবে দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়ে প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ২-১ ব্যবধানে লিড নেয় আলজেরিয়া। বিরতির পর বদলে যায় ম্যাচের চিত্র।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় আর্জেন্টিনা। মেসির নেতৃত্বে একের পর এক আক্রমণে চাপে পড়ে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ। তিনি একটি পেনাল্টি থেকে গোল করে সমতা ফেরান। পরে আরও একটি গোল করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৪-৩ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্জেন্টিনা।
এবারের বিশ্বকাপে দুই দলের সম্ভাব্য লড়াই ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ এই পুরোনো ইতিহাস। ১৯ বছর আগের সেই ম্যাচে মেসি ছিলেন উদীয়মান এক প্রতিভা। আর এখন তিনি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক এবং ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়।
শিরোপাধারী আর্জেন্টিনা এবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামছে। অভিজ্ঞতা ও তরুণ শক্তির সমন্বয়ে গড়া দলটি আবারও ট্রফি জয়ের স্বপ্ন দেখছে।
অন্যদিকে আলজেরিয়াও নিজেদের শক্তি সম্পর্কে আত্মবিশ্বাসী। দ্রুতগতির আক্রমণ, সংগঠিত রক্ষণ এবং কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর ফুটবলের কারণে বড় দলগুলোর জন্য তারা সবসময়ই কঠিন প্রতিপক্ষ।
ফলে ১৯ বছর পর আর্জেন্টিনা ও আলজেরিয়ার সম্ভাব্য এই লড়াই শুধু একটি ম্যাচ নয়, বরং পুরোনো স্মৃতি ও নতুন ইতিহাস তৈরির সুযোগ হিসেবেই দেখছেন ফুটবলপ্রেমীরা। আর সবার নজর থাকবে সেই মেসির দিকেই, যিনি একসময় আলজেরিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে ম্যাচ জিতিয়েছিলেন আর্জেন্টিনাকে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।