যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরান চুক্তির আওতায় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করা পর্যন্ত দেশটির জব্দ করা সম্পদ বা কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সুবিধা মুক্ত করা হবে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের সঙ্গে চলমান সমঝোতা পুরোপুরি পারস্পরিক দায়িত্ব পালনের নীতির ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠছে। অর্থাৎ চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি অনুযায়ী সুবিধা দেওয়া হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করেছে কি না, তা যাচাই হওয়ার আগ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র কোনো স্থগিত সম্পদ ছাড় করবে না। ট্রাম্প প্রশাসন এ অবস্থানের মাধ্যমে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, চুক্তি বাস্তবায়নের প্রমাণ মিললেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া হবে।
এদিকে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা নতুন সমঝোতাকে ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, এই উদ্যোগ ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ এবং দীর্ঘমেয়াদে তা সীমিত করার পথে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।
আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এক কূটনীতিকের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ৬০ দিনের আলোচনা পর্ব উভয় দেশের জন্যই ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে। এতে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার এবং নতুন পারমাণবিক সংলাপের পরিবেশ সৃষ্টি হতে পারে।
এর আগে রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিরা যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমিত করা, অবরোধ শিথিল করা এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় সচল করার লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছানোর ঘোষণা দেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় রোববার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে। এর কিছুক্ষণ আগে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে যুক্ত থাকা পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও আলোচনায় অগ্রগতির কথা জানান।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতার ঘোষণা এলেও দুই দেশের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠন এবং চুক্তির বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। পরিস্থিতির অগ্রগতি নির্ভর করবে আগামী কয়েক সপ্তাহে উভয় পক্ষ কতটা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারে তার ওপর।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।