বিশ্বকাপের অন্যতম সম্ভাবনাময় দল হিসেবে আলোচনায় ছিল জাপান। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাদের পারফরম্যান্স সেই আলোচনাকে আরও জোরালো করেছে। দুইবার পিছিয়ে পড়েও শেষ পর্যন্ত ২-২ গোলের ড্র আদায় করে নিয়েছে এশিয়ার প্রতিনিধিরা।
গ্রুপ এফের ম্যাচে শুরু থেকেই ছিল আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের লড়াই। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছে একের পর এক। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো দলই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি।
প্রথমার্ধে কিছুটা রক্ষণাত্মক কৌশলে খেললেও বিরতির পর ম্যাচের চেহারা বদলে দেয় জাপান। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই আক্রমণের গতি বাড়ায় তারা, যদিও প্রথমে এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস।
৫১ মিনিটে রায়ান গ্রাভেনবার্গের ক্রস থেকে শক্তিশালী হেডে গোল করে ডাচদের লিড এনে দেন ভার্জিল ফন ডাইক। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। মাত্র তিন মিনিট পর নিখুঁত ফিনিশিংয়ে সমতায় ফেরান জাপানের নাকামুরা।
এরপর ৬৪ মিনিটে আবারও এগিয়ে যায় নেদারল্যান্ডস। এবার গোল করেন ক্রিসেনসিও সামারভিল। দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়লেও হাল ছাড়েনি জাপান। ম্যাচজুড়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়া দলটি কাঙ্ক্ষিত পুরস্কার পায় শেষ মুহূর্তে।
নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে দাইচি কামাদা গোল করে স্কোরলাইন ২-২ করেন। সেই গোলেই নিশ্চিত হয় জাপানের মূল্যবান এক পয়েন্ট।
ম্যাচজুড়ে জাপানের দৃঢ়তা ও লড়াকু মানসিকতা ছিল চোখে পড়ার মতো। দুইবার পিছিয়ে পড়ার পরও তারা ম্যাচে ফেরার পথ খুঁজে নিয়েছে। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এমন প্রত্যাবর্তন দলটির আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের জন্য এই ড্র অনেকটা হারের সমান। দুইবার লিড নিয়েও তা ধরে রাখতে না পারায় হতাশ কোচ রোনাল্ড কোম্যান ও তার শিষ্যরা। বিশেষ করে ম্যাচের শেষ দিকে গোল হজম করায় আফসোস আরও বেড়েছে ডাচ শিবিরে।
গ্রুপের পরবর্তী ম্যাচগুলোতে এই এক পয়েন্ট দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে ডালাসের এই ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে জাপানের দুর্দান্ত মানসিক শক্তি ও শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার মনোভাব।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।