রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা হাইকোর্টে নিজের অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন।
রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে জেল আপিল শুনানির সময় তিনি এ বক্তব্য দেন।
আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তিনি আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন এবং অটোরিকশা গ্যারেজে মিস্ত্রির কাজ করতেন। তার ভাষায়, নিয়মিত মাদক সেবনের কারণে তিনি মানসিকভাবে অস্থির ছিলেন এবং পারিবারিক জীবনে নানা অশান্তি চলছিল।
তিনি বলেন, মাদকাসক্ত অবস্থায় ঘটনাটি ঘটে যায় এবং কীভাবে এমন ঘটনা ঘটেছে তা তিনি নিজেও বুঝতে পারেননি। পরে তিনি আদালতের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজের ভুল স্বীকার করেন।
সোহেল আরও দাবি করেন, পরিবারের দায়িত্ব ও আর্থিক সংকট তাকে কঠিন পরিস্থিতিতে ফেলেছিল। তার একটি সন্তান রয়েছে এবং পরিবারের ভরণপোষণের কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে খালাস চান।
এর আগে চলতি বছরের ৭ জুন পল্লবীর ওই ঘটনায় সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। পাশাপাশি অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ মে সকালে স্কুলছাত্রী রামিসা নিখোঁজ হয় এবং পরে তার পরিবার তাকে খুঁজতে গিয়ে ভয়াবহ এই ঘটনার শিকার হয়।
ঘটনাটি পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে এবং দ্রুত বিচার শেষে আদালত রায় ঘোষণা করে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।