ব্রাজিলের বিপক্ষে ম্যাচের শুরুতেই একটি অদ্ভুত দৃশ্য দেখা যায়। কিক-অফের পরপরই পরিকল্পিতভাবে বল মাঠের বাইরে পাঠিয়ে দেয় মরক্কো। শুরুতে এটি ভুল মনে হলেও পরে জানা যায়, এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত।
ইউরোপিয়ান ফুটবলে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু দল এই ধরনের কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষ করে পিএসজি ও আর্সেনালের মতো ক্লাবগুলো হাইপ্রেসিংয়ের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে এই পদ্ধতি অনুসরণ করে।
এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো শুরু থেকেই বলের নিয়ন্ত্রণ না রেখে প্রতিপক্ষকে নিজের অর্ধে খেলতে বাধ্য করা এবং এরপর উচ্চমাত্রার প্রেসিং চালিয়ে বল পুনরুদ্ধার করা।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের কৌশল সেইসব দলের জন্য কার্যকর, যারা দ্রুত প্রেসিং করতে পারে এবং ডিফেন্সিভ লাইন উঁচুতে রেখে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
গ্রুপো গ্লোবোর ধারাভাষ্যকার রদ্রিগো কুতিনিও বলেন, এই কৌশলের উদ্দেশ্য হলো সহজ সুযোগ তৈরি করা। তার মতে, প্রতিপক্ষ যদি ডিপ ব্লকে রক্ষণ গড়ে তোলে, সেখানে জায়গা খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে। তাই বল ছেড়ে দিয়ে দ্রুত প্রেসিং করলে প্রতিপক্ষকে ভুল করতে বাধ্য করা যায়।
তবে মরক্কোর এই পরিকল্পনা পুরোপুরি সফল হয়নি। ম্যাচের শুরুতেই ইবানেজ দ্রুত থ্রো-ইন নিয়ে ফেলায় মরক্কোর ফরোয়ার্ডরা গুছিয়ে উঠতে পারেনি।
পরে মার্কিনিওস বল সামনে পাঠিয়ে দিলে ব্রাজিল সেই চাপ থেকে বেরিয়ে আসে এবং বড় কোনো বিপদের মুখে পড়েনি।
তবুও ম্যাচের শুরুতে এই ট্যাকটিক্যাল পরীক্ষা আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের কৌশল আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রয়োগ করার এই চেষ্টা এখন ফুটবল বিশ্লেষকদের নজরে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।