নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় ১২ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক খোরশেদ আলমকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
শনিবার রাতে তাকে জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে সরিয়ে নোয়াখালী জেলা পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ, কিশোরীর মা ও ভাই জাহাজমারা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের মেসে কাজ করতেন। সেই সূত্রে কিশোরীরও সেখানে যাতায়াত ছিল। এক পর্যায়ে বিভিন্ন কাজের কথা বলে তাকে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বাসায় ডাকা হতো।
পরিবারের দাবি, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে একাধিকবার কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। বিষয়টি প্রকাশ করলে ক্ষতির আশঙ্কা দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
কিশোরীর মা জানান, ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে এবং লিখিত বক্তব্যও দেওয়া হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং ভয়ে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতে পারছেন না।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পরিদর্শক খোরশেদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত বা মৌখিক অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জানান তিনি।
নোয়াখালী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।