বিশ্বকাপ মিশনের শুরুটা প্রত্যাশামতো হলো না ব্রাজিলের। গ্রুপ ‘সি’র প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে কার্লো আনচেলত্তির দল। ফলে শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করলেও প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট তুলে নিতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে মরক্কো। বলের নিয়ন্ত্রণে খুব বেশি এগিয়ে না থাকলেও দ্রুত আক্রমণ এবং কার্যকর প্রেসিংয়ে ব্রাজিলকে চাপে রেখেছিল আফ্রিকার দলটি।
এরই ধারাবাহিকতায় ২১ মিনিটে এগিয়ে যায় মরক্কো। ব্রাহিম দিয়াসের চমৎকার থ্রু পাস ধরে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ ভেঙে সামনে চলে যান ইসমাইল সাইবারি। পরে আলিসন বেকারকে পরাস্ত করে বল জালে পাঠিয়ে দলকে লিড এনে দেন তিনি।
গোল হজমের পর কিছুটা ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে ব্রাজিল। ৩২ মিনিটে সেই চেষ্টার ফলও পেয়ে যায় সেলেসাওরা। বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ব্রুনো গিমারায়েসের সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢোকেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এরপর ডান পায়ের নিখুঁত শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা।
প্রথমার্ধের শেষদিকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগও পেয়েছিল ব্রাজিল। লুকাস পাকেতার ভলিতে নিশ্চিত গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুর্দান্ত সেভ করে মরক্কোকে বাঁচান গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো।
বিরতির পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আরও বেশি নিজেদের হাতে নেওয়ার চেষ্টা করে ব্রাজিল। বলের দখল বাড়ার পাশাপাশি আক্রমণের সংখ্যাও বাড়ে। ৫২ মিনিটে ভিনিসিয়ুসের পাস থেকে ইগর থিয়াগো গোলের সুযোগ পেলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান বুনো।
এরপর রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস এবং বদলি হিসেবে নামা কুনিয়া ও লুইজ হেনরিককে নিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালায় ব্রাজিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয়সূচক গোল আর পাওয়া হয়নি।
অন্যদিকে মরক্কোও ম্যাচের শেষভাগে পাল্টা আক্রমণে বেশ কয়েকবার বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে জয়ের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল তারা। তবে আলিসন বেকারের টানা দুটি অসাধারণ সেভ ব্রাজিলকে সম্ভাব্য হার থেকে রক্ষা করে।
ম্যাচ শেষে পরিসংখ্যানেও দেখা যায় দুই দলের লড়াই ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ব্রাজিল ৫১ শতাংশ বলের দখল রেখে ১৩টি শট নেয়, যার পাঁচটি ছিল লক্ষ্যে। মরক্কো ১৪টি শট নিয়ে তিনবার লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
ড্রয়ের ফলে দুই দলই একটি করে পয়েন্ট নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করল। গ্রুপ ‘সি’তে ব্রাজিলের পরবর্তী ম্যাচ ২০ জুন হাইতির বিপক্ষে। একই দিনে মরক্কো মুখোমুখি হবে স্কটল্যান্ডের।
প্রথম ম্যাচে জয় না পেলেও ব্রাজিলের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকছে। তবে মরক্কোর বিপক্ষে পারফরম্যান্স স্পষ্ট করে দিয়েছে, শিরোপার লড়াইয়ে থাকতে হলে আনচেলত্তির দলকে আরও ধারালো ফুটবল খেলতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।