বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করতে পারেনি ব্রাজিল। মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্কোরলাইনে ফলাফল হতাশাজনক না হলেও মাঠের খেলায় বেশ কিছু দুর্বলতা চোখে পড়েছে কার্লো আনচেলত্তির দলের।
ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুর্দান্ত গোলে হার এড়ালেও পুরো ম্যাচে ব্রাজিলকে দেখা যায়নি তাদের চেনা ছন্দে। ম্যাচ শেষে আনচেলত্তিও স্বীকার করেছেন, শুরুটা মোটেও পরিকল্পনামাফিক হয়নি।
ম্যাচ বিশ্লেষণে ব্রাজিলের জয় না পাওয়ার তিনটি কারণ সবচেয়ে বেশি সামনে এসেছে।
শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল ব্রাজিল
ম্যাচের প্রথম ২০ মিনিটে নিজেদের খুঁজেই পায়নি ব্রাজিল। বলের দখল ধরে রাখতে সমস্যা হয়েছে, মাঝমাঠে ছিল সমন্বয়ের অভাব। অন্যদিকে মরক্কো শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মনোভাব নিয়ে খেলেছে এবং ব্রাজিলের খেলোয়াড়দের ওপর নিয়মিত চাপ সৃষ্টি করেছে।
মাঝমাঠে কাসেমিরো, ব্রুনো গিমারায়েস ও লুকাস পাকেতা প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারেননি। ফলে বলের নিয়ন্ত্রণ বারবার হারিয়েছে সেলেসাওরা।
২১ মিনিটে ব্রাহিম দিয়াসের নিখুঁত পাস থেকে ইসমাইল সাইবারির গোল মরক্কোর আত্মবিশ্বাসী শুরুরই প্রতিফলন। তখনও ম্যাচের গতি নিজেদের পক্ষে নিতে পারেনি ব্রাজিল।
মাঝমাঠ ও ডান প্রান্তে ছিল দুর্বলতা
ব্রাজিলের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল মাঝমাঠের ভারসাম্য। অভিজ্ঞ কাসেমিরোকে বারবার চাপে ফেলেছে মরক্কোর দ্রুতগতির মিডফিল্ড। ব্রুনো গিমারায়েসও নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারেননি।
ডান দিকেও সমস্যায় পড়তে হয় আনচেলত্তির দলকে। স্বাভাবিক সেন্টারব্যাক রজার ইবানিয়েজকে রাইটব্যাকে খেলানোর সিদ্ধান্ত পুরোপুরি সফল হয়নি। মরক্কো বারবার সেই দিক দিয়ে আক্রমণ গড়ে তুলেছে।
প্রথমার্ধ শেষে আনচেলত্তি কাসেমিরো ও ইবানিয়েজকে তুলে ফাবিনিয়ো ও দানিলোকে নামান। পরিবর্তনের পর কিছুটা উন্নতি দেখা গেলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিতে পারেনি ব্রাজিল।
আক্রমণে ভিনিসিয়ুস ছাড়া দেখা যায়নি ধার
ব্রাজিলের সমতার গোলটি এসেছে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে। বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে শক্তিশালী শটে গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান তিনি।
তবে সমস্যা হলো, আক্রমণে দলগত সমন্বয় খুব একটা দেখা যায়নি। রাফিনিয়া চেষ্টা করলেও শেষ মুহূর্তে কার্যকর হতে পারেননি। একাদশে সুযোগ পাওয়া ইগর থিয়াগোও নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হয়েছেন।
দ্বিতীয়ার্ধে মাতেউস কুনিয়া ও লুইজ হেনরিক মাঠে নামার পর আক্রমণের গতি কিছুটা বাড়ে। তবুও মরক্কোর রক্ষণ ভাঙার মতো পরিষ্কার পরিকল্পনা চোখে পড়েনি। শেষ দিকে কয়েকটি কর্নার ও ক্রস থেকে চাপ তৈরি হলেও গোলরক্ষক ইয়াসিন বোনোকে বড় কোনো পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি ব্রাজিল।
এটি সতর্কবার্তা, সংকট নয়
প্রথম ম্যাচে ড্র করলেও ব্রাজিলের জন্য পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক নয়। তবে মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচটি দলটির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতা সামনে এনে দিয়েছে।
মাঝমাঠে আরও নিয়ন্ত্রণ, ডান প্রান্তে স্থিতিশীলতা এবং আক্রমণে দলগত সমন্বয় বাড়াতে না পারলে সামনে কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষা করছে আনচেলত্তির দলের জন্য।
এখন ব্রাজিলের লক্ষ্য পরের ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো। কাগজে-কলমে প্রতিপক্ষ তুলনামূলক সহজ হলেও বিশ্বকাপের মঞ্চে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। ব্রাজিলকে এবার নামের পাশাপাশি খেলাতেও নিজেদের শক্তির প্রমাণ দিতে হবে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।