বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে আলোচনায় উঠে এসেছিল প্যারাগুয়ে। সেই দলটিই বিশ্বকাপের মূল পর্বে এসে বড় ধাক্কা খেল। নিজেদের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ৪-১ গোলের ব্যবধানে হেরে কঠিন অবস্থায় পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিনিধিরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র ছিল অনেক বেশি আক্রমণাত্মক। প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে চাপে রেখে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে তারা। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে প্যারাগুয়ের আত্মঘাতী ভুল থেকে। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের নিচু ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে বল নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন ডিফেন্ডার দামিয়ান বোবাদিয়া।
প্রথম গোল হজমের পর ম্যাচ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয় প্যারাগুয়ে। কিন্তু সেই পরিবর্তন তাদের জন্য উল্টো বিপদ ডেকে আনে। আক্রমণে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে রক্ষণে ফাঁক তৈরি হয়, যার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বিরতির আগেই আরও দুই গোল করে ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
চোট কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে একাদশে জায়গা পাওয়া জুলিও এনসিসোর কাছ থেকে বড় কিছু প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। তবে পুরো ম্যাচেই তাকে অনেকটা নিষ্প্রভ দেখা গেছে। একইভাবে অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার মিগেল আলমিরনও নিজের সেরাটা দেখাতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলি খেলোয়াড় মরিসিও গোল করে প্যারাগুয়েকে কিছুটা আশা দেখান। তার গোলে ব্যবধান কমলেও ম্যাচে পুরোপুরি ফিরতে পারেনি দলটি। বরং এরপর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
নির্ধারিত সময়ের শেষদিকে জিও রেইনার গোল প্যারাগুয়ের শেষ আশাটুকুও নিভিয়ে দেয়। ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ম্যাচে প্যারাগুয়ের পরাজয়ের পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারকা ফুটবলারদের প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়া, শুরুতেই গোল হজম করে কৌশল বদলাতে বাধ্য হওয়া এবং একাদশ নির্বাচনে কিছু প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত দলটির জন্য বড় সমস্যা তৈরি করেছে।
এই হারের ফলে গ্রুপ পর্বে প্যারাগুয়ের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ অপেক্ষা করছে। পরবর্তী ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে না পারলে বাছাইপর্বে চমক দেখানো দলটির বিশ্বকাপ যাত্রা দ্রুতই শেষ হয়ে যেতে পারে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।