প্রীতি ম্যাচ হলেও মাঠের উত্তেজনা ছিল প্রতিযোগিতামূলক লড়াইয়ের মতো। তবে ফুটবলীয় নৈপুণ্যের চেয়ে ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে লাল কার্ডের ঘটনা। যুক্তরাষ্ট্র নারী দলের বিপক্ষে ম্যাচে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে মোট আটটি লাল কার্ড দেখেছে ব্রাজিল।
বুধবার ফোর্তালেজায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ১-০ গোলে জয় পায় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ফলাফলের চেয়ে বেশি নজর কাড়ে ম্যাচজুড়ে ঘটে যাওয়া বিতর্ক ও শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা।
দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করায় ব্রাজিলের প্রধান কোচ আর্থুর এলিয়াস এবং তার তিন সহকারীকে টেকনিক্যাল এরিয়া থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যেও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ৬৩তম মিনিটে। যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ফরোয়ার্ড সোফিয়া উইলসনের নেওয়া শট ব্রাজিলের ডিফেন্ডার ইসাবেলার গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়িয়ে যায়। এতে পরাস্ত হন গোলরক্ষক লোরেনা।
৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ব্রাজিল গোলমুখে কোনো শটই রাখতে পারেনি। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ছয়বার লক্ষ্যভেদী শট নেয়।
যোগ করা সময়ে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন ব্রাজিলের বিয়া জেনারাত্তো। এরপর সতীর্থ তারসিয়ানে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পরও বিতর্ক থামেনি। রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় ব্রাজিলের ক্যারোলিন ও লুদমিলাকেও লাল কার্ড দেখানো হয়।
এটি ছিল ব্রাজিল সফরে দুই দলের দ্বিতীয় প্রীতি ম্যাচ। এর আগে সাও পাওলোতে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে জয় পেয়েছিল ব্রাজিল।
এদিকে ছয়বারের ফিফা বর্ষসেরা নারী ফুটবলার মার্তা ৮০তম মিনিটে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন। ব্রাজিলের জার্সিতে এটি ছিল তার ২১২তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ।
ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের এমিলি সনেটের সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পান ব্রাজিলের তরুণ ফরোয়ার্ড দুদিনিয়া। হাঁটুতে আঘাত পাওয়ার পর তাকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়া হয়। পরে ক্রাচের সাহায্যে বেঞ্চে ফিরে আসেন তিনি।
আগামী বছর নারী বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সাও পাওলো ও ফোর্তালেজার স্টেডিয়ামগুলোতে এই দুটি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এখনো কোনো মতামত নেই। আপনার মতামত দিন।